Categories
প্রবাস

আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ল

সংযুক্ত আরব আমিরাতে আগামী ৭ জুলাই পর্যন্ত বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার না’গরিকদের প্রবেশে নি’ষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে কূটনীতিক, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নাগরিক অথবা গোল্ডেন ভিসাধারীরা এই নি’ষেধাজ্ঞার আওতায় থাকবে না।

ইতিহাদ এয়ারওয়েজের ওয়েবসাইটকে উদ্ধৃত করে এ খবর দিয়েছে দেশটির অন’লাইন খালিজ টাইমস। বি’মান সংস্থাটি বলেছে, এ সময়সীমা আরও বাড়ানো হতে পারে। যেসব মানুষ গত ১৪ দিনের মধ্যে এসব দেশ সফর করছেন তারাও আমিরাতে প্রবেশের অনুমতি পাবেন না।

ইতিহাদ বলেছে, যদি আপনি কূটনীতিক বা আমিরাতের নাগরিক বা গোল্ডেন ভিসাধারী হয়ে থাকেন, তা’হলেও ফ্লাইট উ’ড্ডয়নের সর্বোচচ ৪৮ ঘণ্টা আগের পিসিআর টেস্ট রিপোর্ট দেখাতে হবে।

অন্যদিকে সোমবার স্থানীয় সময় ৫টা নাগাদ দুবাইভিত্তিক বিমান সংস্থা এ’মিরেটস তাদের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত সময় ব’র্ধিত করে কোনো নোটিশ দেয়নি। বিমান সংস্থাটির ওয়েবসাইটে তখনো বলা হচ্ছিল- বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা থেকে তাদের যাত্রী আনা পরবর্তী নোটিশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, নেপাল এবং শ্রীলঙ্কার নাগরিক এবং বিদেশি ফ্লাইট ১২ মে রাত ১১টা ৫৯ মি’নিটে প্রথম স্থগিত ঘোষণা করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। তবে কার্গো বিমান চলাচলে কোনো বিধিনিষেধ নেই।

গত সপ্তাহে এমিরেটস বলেছে, ৬ জুলাই পর্যন্ত ভারত থেকে আমিরাতে যা’ত্রীবাহী ফ্লা’ইট বন্ধ থাকবে। স’র্বোপরি বর্ত’মানে ১০টি দেশ থেকে যাত্রী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আছে আমিরাতে। এসব দেশ হলো- বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভি’য়েতনাম, দক্ষিণ আফ্রিকা, জাম্বিয়া, কঙ্গো এবং উগান্ডা।

Categories
প্রবাস

সিঙ্গাপুর অক্টোবরের মধ্যে প্রতি ৪ জনের ৩ জনকে পুরোপুরি টিকা দেয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে: লরেন্স ওয়াং

সিঙ্গাপুর তার অর্ধেক বাসিন্দাকে আগস্টের মধ্যে পুরোপুরি টিকা দেওয়ার জন্য কাজ করছে এবং অক্টোবরের মধ্যে কমপক্ষে ৭৫ শতাংশ ব্যক্তি পুরোপুরি টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে। সোমবার (৭ জুন) হিসাবে, ১.৮ মিলিয়নেরও বেশি লোক, বা জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ পুরোপুরি টিকা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী লরেন্স ওয়াং এই তথ্য উপস্থাপন করেছিলেন, যেহেতু তিনি উল্লেখ করেছিলেন যে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র এই বছরের জানুয়ারি থেকে – সংক্রমণের হার ক্রমাগত কমতে দেখেছে।

যখন প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছিল, যার ফলে কোভিড -১৯ সংক্রমিত হয়৷তিনি আরও যোগ করেছেন যে মা’র্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৪০ শতাংশেরও বেশি মানুষ পুরোপুরি ভ্যাকসিনযুক্ত এবং প্রায় ১০ শতাংশ লোক ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলো।জনার ওয়াং বলেন, সিঙ্গাপুর এখনও রোগ প্রতিরোধ
(immunity) সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে না, তবে “আমরা শীঘ্রই সেখানে পৌঁছে যাব।

৩১ শে মে জাতীয় ভাষণে প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং বলেছিলেন, দেশের লক্ষ্য এমন প্রতিটি ব্যক্তির জন্য যারা টিকা দেওয়ার জন্য যোগ্য তাদের টিকা দেওয়া এবং তিনি চান যে আগামি ৯ আগস্ট জাতীয় দিবসের মধ্যে প্রত্যেকে কমপক্ষে তাদের এক ডোজ টিকা পাবে।

উচ্চতর টিকা দেওয়ার হার, সামাজিক দূরত্ব এবং নিরাপদ পরিচালনার ব্যবস্থার সাথে সম্মতি, নিয়মিত পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং দ্রুত আরও ব্যাপক কনট্রাক্ট ট্রেসিং এর ফলে সিঙ্গাপুর সীমাবদ্ধতা কমিয়ে আস্তে আস্তে, “আমাদের সাধারণ জীবন, উভয়ই সিঙ্গাপুরে এবং আমাদের সীমান্তে” ফিরিয়ে আনবে, মিঃ ওয়াং বলেছেন , যিনি কোভিড -১৯ মোকাবেলায় গঠিত বহু-মন্ত্রণালয়ের টাস্ক ফোর্সের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

আপাতত, সীমান্তে কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে, দ্বিতীয় পর্যায়ের (উচ্চতর সতর্কতা) ব্যবস্থাগুলো সতর্কতা ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে সোমবার থেকে ফিরিয়ে আনা হবে। অন্যান্য নিয়মকানুনের মধ্যে সামাজিক জমায়েতের সর্বাধিক গ্রুপের আকার দুই ব্যক্তি থেকে পাঁচে উন্নীত হবে।২১ জুন থেকে পুনরায় খোলার দ্বিতীয় পর্যায়টি শুরু হবে, যখন খাবারের দোকানগুলোতে খাবারের অনুমতি দেওয়া যেতে পারে, তবে সর্বোচ্চ পাঁচজনের গ্রুপ আকার হবে৷

সিঙ্গাপুরের ভ্যাকসিনের হার বেশি না হওয়া পর্যন্ত এই ধরণের নিষেধাজ্ঞাগুলো তিন ধাপে (উচ্চতর সতর্কতা) প্রয়োজন, মিঃ ওয়াং বলেছেন। “এটি পুরোপুরি তৃতীয় ধাপের নয়, আম’রা এই পর্বটিকে (উচ্চতর সতর্কতা) বলি কারণ এই বিধিনিষেধগুলো এখনও আছে” ”বিধি শিথিল করার ঘোষণাটি গত তিন সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয়ভাবে করোনায় আ’ক্রান্তের সংখ্যা হ্রাসের মধ্যে এসেছিল।

মিঃ ওয়াং বলেছেন: “আম’রা যখন এই পর্যায়ে (পুনরায় খোলার) মাধ্যমে অগ্রগতি করব, আম’রা আমাদের সীমাবদ্ধতাগুলো সহজ করব এবং ধীরে ধীরে আমাদের সাধারণ জীবন সিঙ্গাপুর এবং আমাদের সীমান্তে উভয়ই ফিরিয়ে আনব। তারপরে আম’রা তৃতীয় ধাপে চলে যাব, এমনকি তৃতীয় ধাপ পেরিয়েও, স্থানীয় কোভিডের সাথে থাকার নতুন একটি সাধারণ পর্যায়ে।
ওমর ফারুকী শিপন।
তথ্যসূত্র : The Straits times

Categories
প্রবাস

বিশেষ ফ্লাইট-স্থলপথে আগত প্রবাসীদের কোয়ারেন্টাইন হচ্ছে যেভাবে

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করে আন্ত’র্জাতিক সব রুটে ফ্লাইট চলাচল তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া প্রবাসী কর্মী ও দেশে ছুটিতে এসে কিংবা নতুন ভিসা নিয়ে যাচ্ছেন এমন প্রবাসী কর্মী ও ব্যবসা-বাণিজ্যের কথা বিবেচনা করে বিশেষ বিবেচনায় বর্তমানে সাতটি দেশে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দিয়েছে বেসাম’রিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। দেশ সাতটি হলো- সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, সিঙ্গাপুর, চীন কুয়েত ও বাহরাইন।

প্রতিবেশী দেশ ভারতে করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আকাশপ’থে আগে থেকেই ফ্লাইট চলাচল বন্ধ রয়েছে। সম্প্রতি দুই সপ্তাহের জন্য বাংলাদেশের সব সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বিশেষ বিবেচনায় কোয়ারেন্টাইনে থাকা সাপেক্ষে সীমিত আকারে স্থলপথে কিছু সংখ্যক বাংলাদেশি ও ভারতীয় নাগরিক নিজ নিজ দেশে ফিরছেন।

প্রবাসী অনেকের মনে প্রশ্ন দেশে ফিরলে তাদেরকে কোয়ারেন্টাইনে কোথায় কতদিন থাকতে হবে। অনেকেরই এ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা না থাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্টগ্রাম শাহ আমানত ও সিলেট ওসমানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমে কোয়ারেন্টাইনে থাকা নিয়ে ঝামেলায় পড়েন।

সর্বশেষ গত ২২ এপ্রিল রাতে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যাদের করোনার দুটি ভ্যাকসিন নেয়া আছে এবং করোনা নেগেটিভ সার্টিফিকেট আছে, তাদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে থাকা লাগবে না। তারা বাড়িতে গিয়ে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। স্থানীয় প্রশাসন তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন সঠিকভাবে হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করবে।

আর যাদের করোনা ভ্যাকসিনের একটি ডোজ নেয়া আছে এবং করোনা নেগেটিভ সা’র্টিফিকেট রয়েছে, তাদের তিনদিনের বাধ্যতামূলক প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হবে। তাদের দেশে প্রবেশের পর করোনা টেস্ট করানো হবে। টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ এলে তারা বাকি ১১ দিন বাড়িতে গিয়ে কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্মরত স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহকারী পরিচালক শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, বর্তমানে রাজধানীতে সরকারি দুটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টার (আশকোনা হাজি ক্যাম্প ও উত্তরা দিয়া বাড়ি) এবং বেসরকারি সংস্থা ব্রাকের একটি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখা হচ্ছে। এজন্য প্রবাসী কর্মীদের কোনো টাকা খরচ করতে হচ্ছে না।

পাশাপাশি যুক্তরাজ্যফেরত যাত্রীদের সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন সেন্টারের বদলে সরকার নির্ধারিত যে ২৮টি হোটেলে নিজ খরচে থাকার সুযোগ ছিল, প্রবাসী কর্মীরা চাইলে সরকারি কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে না থেকে সেসব হোটেলে তিনদিনের কোয়ারেন্টাইনে থাকতে পারবেন।

পূর্বের সরকারি নির্দেশনায় বলা আছে, করোনাকালে বিশেষ হ্রাস করা মূল্যে তিনবেলা মানসম্মত খাবারসহ আবাসন সুবিধা দেয়ার শর্তে নিম্নোক্ত ২৮টি হোটেলকে নির্দেশক্রমে অনুমোদন দেয়া হলো। হোটলেগুলো হলো- ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বেঙ্গল ক্যানারি পার্ক লিমিটেড, সিক্স সিজন্স হোটেল, ঢাকা রিজেন্সি হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, রেডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন, হোটেল প্লাটিনাম, হোটেল গার্ডেন রেসিডেন্স, হোটেল বেঙ্গল ইন, স্কাইলিংক লিমিটেড, হোটেল স্প্রিং হিল অ্যাপার্টমেন্ট, রয়্যাল পার্ক রেসিডেন্স হোটেল, প্লাটিনাম রেসিডেন্স, হোটেল দি রহমানিয়া ইন্টারন্যাশনাল, গ্যালেসিয়া হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেড, ওয়েস্ট পার্ক ইন রেসিডেন্স, ন্যাসেন্ট গার্ডেনিয়া, এনকোরেজ দি রেসিডেন্স, ব্লু কাস্টেল হোটেল, রাফ্রেসিয়া সার্ভিসড অ্যাপার্টমেন্ট, লেকসোর হোটেল, দি ওয়ে ঢাকা, ডরিন হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট (সাবেক ফোর পয়েন্ট বাই শেরাটন), ন্যাসেন্ট গার্ডেনিয়া রেসিডেন্স, হলিডে এক্সপ্রেস, রেনেসা ঢাকা গুলশান হোটেল, গ্রিন হাউজ, প্রিয় নিবাস স্টাইলিস রেসিডেন্টাইল হোটেল এবং হোটেল অ্যারিস্টোক্রেট ইন লি.।

এতে আরও বলা হয়েছে, হোটেলে অবস্থানকালীন বিদেশফেরত যাত্রীদের অবশ্যই সকল স্বাস্থ্যবিধি এবং প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের সব বিধি-বিধান কঠোরভাবে মেনে চলার বিষয়টি হোটেল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করবে। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের কোনো বিধিনিষেধ লঙ্ঘন করা হলে বা মেনে না চললে সংশ্লিষ্ট হোটেলের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সম্প্রতি ভারতে করোনার সংক্রমণ আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পাওয়ায় দুই সপ্তাহের জন্য সকল বন্দরে আসা যাওয়া বন্ধের নির্দেশনা জারি হয়। এর ফলে অনেক বাংলাদেশি ও ভারতীয় নাগরিক আটকা পড়েন। তাদের জন্য বিশেষ বিবেচনায় করোনা নেগেটিভ সনদ নিয়ে আসাসহ বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন মানতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট স্থলবন্দরের জেলা প্রশাসকের অধীনে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে তাদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে কোয়ারেন্টাইনে থাকার শর্তে বিশেষ বিবেচনায় উভয় দেশে ফিরতে দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

Categories
প্রবাস

বিপাকে পড়েছেন মধপ্রাচ্যগামী দরিদ্র প্রবাসীকর্মীরা

কয়েকটি দেশে বিশেষ ফ্লাইট চলাচল করলেও টিকিটের দাম চড়া হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মধপ্রাচ্যগামী দরিদ্র প্রবাসীকর্মীরা। ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে এলেও উচ্চমূল্যে টিকিট কেনার সাধ্য না থাকায় যেতে পারছেন না অনেকে। যাত্রীদের অভিযোগ, বিমান সংস্থাগুলো সিন্ডিকেট করে টিকিটের দাম বাড়াচ্ছে। এদিকে, চড়া মূল্যে টিকিট ও হোটেল বুকিং দিয়েও স্বস্তি নেই প্রবাসীদের। বেশির ভাগ বিদেশি এয়ারলাইন্সের অফিস বন্ধ থাকায় যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন তারা।

সৌদিগামী এক যুবক জানান, ছুটিতে দেশে এসে বিপাকে পড়েছেন তিনি। ৩ মে ভিসার মেয়াদ শেষ হলেও লাখ টাকা দিয়ে টিকিট কেনার সাধ্য না থাকায় কর্মস্থলে ফেরা হচ্ছে না তার। রিক্রুটিং এজেন্টরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত ও নেপাল থেকে যাত্রীরা অনেক কম ভাড়ায় যেতে পারলেও এ দেশে সব এয়ালাইন্স মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমানের ভাড়া নিচ্ছেন কয়েক গুণ বেশি। আর ফ্লাইট চালু হলেও দূতাবাস এবং বাংলাদেশ জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো অফিস বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন নতুন কর্মীরা। এদিকে, অনেক প্রবাসী অনলাইনে উচ্চমূল্যে টিকিট বুকিং দিলেও বেশির ভাগ বিদেশি এয়ারলাইন্সের অফিস বন্ধ থাকায় যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না তাদের।

সৌদিগামী এক যুবক বলেন, আমার অলরেডি সাড়ে তিন লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। ২৯ এপ্রিল আমার ফ্লাইট। অনলাইনে কাতার এয়ারওয়েজে টিকিট বুকিং দিয়েছি। এখন অফিসে এসে দেখি অফিস বন্ধ।

সিভিল অ্যাভিয়েশন চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, এয়ারলাইন্সগুলোর অতিরিক্ত ভাড়া নেয়া বন্ধে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দেয়া হয়েছে। এরপরও বেশি ভাড়া নিলে সেটি দেখার দায়িত্ব মন্ত্রণালয়ের।

লকডাউনে আটকেপড়া প্রবাসীকর্মীদের জন্য ১৭ এপ্রিল থেকে বিশেষ ফ্লাইট চালুর পর গত ১২ দিনে ৪০ হাজারের বেশি প্রবাসী দেশ ছেড়েছেন। প্রথমে ৫টি পরে আরো তিনটি দেশে অনুমতি দেয়া হলেও দেশে করোনার প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় বন্ধ করে দিয়েছে ওমান।

Categories
করোনাভাইরাস খেলাধুলা প্রবাস বিনোদন

পাকিস্তানে করোনায় মৃত্যুর নতুন রেকর্ড

প্রতিবেশী দেশ ভারতের মতো পাকিস্তানেও বাড়ছে মহামারি করোনার আগ্রাসন। দে’শটিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৫৭ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনা। প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর করোনাভাইরাসে একদিনে সর্বাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে গতকাল শনিবার।

পাকিস্তানের প্রভাবশালী জাতীয় দৈনিক ডনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেকর্ড মৃত্যুর পর দেশটিতে করো’নায় মোট প্রাণহানি গিয়ে ঠেকেছে ১৬ হাজার ৯৯৯ জনে। একই সঙ্গে দেশটিতে করোনায় শনাক্ত মানুষের সংখ্যাও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া হালনাগাদ হিসাব অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় পাকিস্তানে সর্বাধিক ৯৮ জন মানু’ষের মৃত্যু হয়েছে পাঞ্জাবে। এরপর খাইবার পাখতুনখাওয়ায় ৩৭, সিন্ধ প্রদেশে ১১, বেলুচিস্তানে ৩, ইসলামাবাদে ৫ ও আজাদ কাশ্মীরে ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

গত বছরের ২০ জুন পাকিস্তানে করোনায় ১৫৩ জনের মৃত্যু ছিল দেশটিতে মহামারি শুরুর পর এ’কদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এর পরদিন ২১ জুন দেশটিতে মারা যান ১৪৮ জন। এরপর পাকিস্তানে করোনায় দৈনিক মৃত্যুর সংখ্যা কিছুদিন আগ পর্যন্ত ১১৮ জনের কম ছি’ল।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৫২ হাজার ৪০২টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫ হাজার ৯০৮ জন করোনা রোগী শ’নাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশটিতে করোনা সংক্রমিত মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৭ লাখ ৯০ হাজার ১৬ জন হয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৮৬ হাজার ৪৮৮ জন।

পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফায় করোনার এই প্রকোপ বিবেচনায় সীমান্ত লাগোয়া ইরান দেশটির সঙ্গে সব ধর’নের ফ্লাইট চলাচল বাতিল করে দিয়েছে। এদিকে শনিবার একই দিনে পাকিস্তানের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরব।

এদিকে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে ধাক্কায় ধুঁকছে ভারত। টানা তিন দিন দেশে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা তিন লাখ পেরিয়ে গিয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে সীমান্তপার থেকে ভারতের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

শনিবার (২৪ এপ্রিল) এক টুইটবার্তায় ইমরান বলেন, ‘করোনাভাইরাসের বিপজ্জনক ঢেউয়ের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় আমরা ভারতীয়দের পাশে দাঁড়াচ্ছি। আমাদের প্রতিবেশী এবং বিশ্বের যে দেশগুলো এই মহামারিতে জর্জরিত, তাদের দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার জন্য প্রার্থনা করছি। আমাদের অবশ্যই একত্রিত হয়ে এই বিশ্বব্যাপী সংকটের মোকাবিলা করতে হবে।’