Categories
জাতীয়

কিশোরী নববধূকে ‘প্রাপ্তবয়স্ক’ করতে যা করলেন সেই ইউপি চেয়ারম্যান

গত রোববার (১ নভেম্বর) ১৪ বছরের এক কি’শোরীকে বিয়ে করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেন কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজে’লার বুড়াবুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান আবু তা’লেব সরকার। ৪৫ বছরের চেয়ারম্যানের সঙ্গে কি’শোরীর বাল্যবিয়ের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হলে দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। সেই সমালোচনা ঢাকতে ইউপি চেয়ারম্যান আবু তা’লেব ঘটিয়েছেন আরেক কা’ণ্ড।

 

জালিয়াতির মাধ্যমে সদ্য বিবাহিত স্ত্রী’র বয়স পিইসি (প্রাথমিক সমাপনী) পরীক্ষার সনদে বাড়িয়ে তার পক্ষের লোকজন দিয়ে বিয়েটি ‘বাল্যবিয়ে’ নয় বলে প্রচারণা চালান। কিন্তু অনুসন্ধানে ওই কি’শোরীর প্রাথমিক সমাপনী (পিএসসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) সনদ হাতে পাওয়ার পর জালিয়াতির বিষয়টি উঠে আসে।

 

পিএসসি ও জেএসসি সনদে ওই কি’শোরীর জন্ম তারিখ ২৩-০৯-২০০৩ উল্লেখ রয়েছে। সে হিসেবে তার বর্তমান বয়স ১৭ বছর ১ মাস ১২ দিন। চেয়ারম্যানের এমন প্রতারণার বিষয়টি ফাঁ’স হলে নতুন করে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে একজন ইউপি চেয়ারম্যান বাল্যবিয়ে করলেও প্রশাসনের নির্বিকার ভূমিকা নিয়ে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, উপজে’লার বুড়াবুড়ি ইউনিয়নের দোলন গ্রামের প্রতিব’ন্ধী ওসমান গনি সরকার ওরফে বাচ্চুর নবম শ্রেণি পড়ুয়া মে’য়ে বর্নিতা ওসমান বর্নির সঙ্গে অ’বৈধ স’ম্পর্ক গড়ে ওঠে ইউপি চেয়ারম্যান আবু তা’লেবের। এরপর হতদরিদ্র ওই কি’শোরীর পরিবারটিকে নানাভাবে আর্থিক সহায়তার প্রলো’ভন দেখাতে থাকেন তিনি। এক পর্যায়ে গত রোববার (১ নভেম্বর) রাতে মে’য়েটির পরিবারের লোকজন ৬ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে চেয়ারম্যানের সঙ্গে বিয়ে দেন। তবে এর আগেও ওই ইউপি চেয়ারম্যানের স্ত্রী’ ও কলেজপড়ুয়া এক মে’য়ে রয়েছে।

 

ভু’য়া সনদের লিপিকার জোবাইদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারী শিক্ষক মেহেরুল ইস’লাম বলেন, এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক ভালো বলতে পারবেন। আমি কিছু জানি না।প্রধান শিক্ষক প্রবীর কুমা’র রায় বলেন, ডিআর অনুযায়ী ওই শিক্ষার্থীর পিইসি সনদ প্রদান করা হয়। তবে কিভাবে এমনটা হলো বুঝতে পারছি না। ত’দন্ত করলে সত্যতা বেরিয়ে আসবে। বুড়াবুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আবু তা’লেব জানান, বিয়ের মজলিশে তারা পিইসির সনদে যে কাগজ দিয়েছেন সেখানে ২৩-০৯-২০০০ সাল উল্লেখ ছিল। সেই সনদ দিয়েই কাজী বিয়ে রেজিস্ট্রি করেছেন। ওই মুহূর্তে তারা জন্মনিবন্ধন দেখাতে পারেননি। আমি দুই দিন পর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম সনদ তুলে ওই বয়স পেয়েছি।

 

বর্নির চাচা বুড়াবুড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার আবু বক্কর জানান, বর্নির বিয়ে তার স্কুলের সনদ অনুযায়ী কাজী দ্বারা সম্পন্ন করা হয়েছে। অনেকেই এটার বিরোধীতা করছে। কাজী এত বোকা নন যে সনদ ছাড়া বিয়ে দেবেন। কুড়িগ্রাম জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকন বলেন, এটা ফৌজদারি অ’প’রাধ। ঘটনার সময় ভ্রাম্যমাণ আ’দালত পরিচালিত হয়নি। তবে তার বি’রুদ্ধে নিয়মিত আইনে মা’মলা দায়েরের সুযোগ রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *