Categories
জাতীয়

বিগত ৪ বছরে প্রবাস থেকে বাংলাদেশে এসেছে ৪৭৩ জন নারীকর্মীর লাশ

বিগত ৪ বছরে বা এর থেকে কিছুটা বেশী সময়ে প্রবাস থেকে এসেছে ৪৭৩ জন নারীকর্মীর লা’শ। এর মাঝে আ’ত্মহ-ত্যা করেছেন ৫১ জন নারী। বিগত ৩১ অক্টোবর সকালবেলা ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসে ১৩ বছর বয়সী কিশোরী নদীর লা’শ। যাকে ২৫ বছর বয়স দেখিয়ে বাংলাদেশী দালা’লচক্র সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজে পাঠিয়েছিল।

 

যদিও অফিশিয়াল হিসেবে এটিকে সৌদি কর্তৃপক্ষ আ’ত্মহ-ত্যা বলে উল্লেখ করছে কিন্তু নদীর পরিবার বলছে তাকে আ’ত্মহ-ত্যায় বা’ধ্য করা হয়েছে।সৌদি আরব গমনের পরপরই নানা সম’স্যায় ছিল সে।তাকে যেই এজেন্সি বয়স বাড়িয়ে সৌদি পাঠিয়েছিল তারা এ ব্যাপারে কোন প্রকার সহায়তা করেনি। নদীর মা গণমাধ্যমকে জানান যে সৌদি আরবে যাওয়ার পরপরই তাঁর উপর নানা রকম নি’র্যা-তন চলতে থাকে এবং সে কোন মাসেরই বেতন পায় নাই।

 

কাগজে কলমে আ’ত্মহ-ত্যা লেখা থাকলেও নদীর গলায় কোন দা’গ নেই কিন্তু সারা শরীরে প্রচুর আ’ঘা’তের দা’গ রয়েছে বলে লা’শ দেখার পর গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেন নদীর মা। এর মাত্র কয়েকমাস আগে আরেক ১৪ বছর বয়সী কিশোরী কূলসুমের লা’শও একই ভাবে বাংলাদেশে ফিরত আসে। তাঁর শরীরের বেশ কয়েকটি হার ভা’ঙ্গা ছিল। একটি চোখ ন’ষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। আ’হ’ত অবস্থায় তাকে রাস্তায় ফেলে দিয়েছিল তাঁর নিয়োগকর্তা পরিবার।

 

সেখান থেকে সৌদি পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে যাওয়ার পর সে মা’রা যায়।শুধু এরা দুইজনই নয় সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি আরব থেকে ফেরত এসেছে বহু বাঙ্গালী নারীর লা’শ।সাম্প্রতিক সময়ে আসা এই লাশের একটি তালিকা হল নাছিমা বেগম (২৬), আফিয়া বেগম (৩৮), তাসলিমা বেগম (২৭), বরগুনার খাদিজা (৩৯), নরসিংদীর সাফিয়া (৩১), মৌলভীবাজারের হেলেনা (২৯), মানিকগঞ্জের মমতাজ (৩৪), চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাসরিন (৩১) ও নারায়ণগঞ্জের রেখা (৪০)।

 

যাদের কারোর মৃ’ত্যুই স্বাভাবিক ছিল না।পরিসংখ্যানের আলোকে হিসাব করলে দেখা যায় যে২০১৬ থেকে চলতি ২০২০ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৪৭৩ নারীর ম’রদেহ দেশে ফিরেছে।এর মধ্যে ৬৩ জন মা’রা গেছে চলতি বছর। গতবছর পর্যন্ত মৃত ৪১০ জনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি মা’রা গেছে সৌদি আরবে, ১৫৩ জন। এই বছরের ২২ জন ধরলে এই সংখ্যা ১৭৫ জন।

 

মৃ’তদের মধ্যে জর্ডান থেকে ৭৫ জন, লেবানন থেকে ৬৬ জন, ওমান থেকে ৪৫ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ২৭ জন এবং কুয়েতে ২০ জন ‘গেছেন।এর বাহিরে অন্য দেশ থেকে ৬০ জনের লা’শ এসেছে। বেগম নামের এক নারী সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর মৃ’ত্যু হয় মিশরে। সৌদি থেকে তিনি মিশরে কিভাবে গেলেন সেই তথ্যও তাঁর রিক্রুটিং এজেন্সি দিতে অপা’রগ।

 

মিশরের বাংলাদেশী দূতাবাস আনুষ্ঠানিকভাবে কেবল জানিয়েছে যে বেগম নামের এক বাংলাদেশী নারী মিশরের ৫ তলার এক ভবন থেকে পড়ে মৃ’ত্যু বরণ করেছেন। কিন্তু তিনি কি করে সৌদি থেকে মিশরে গেলেন তা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *