Categories
জাতীয়

স্বামী অবহেলায় মৃত্যু: কাঁদতে কাঁদতে যা বললেন নুর নাহারের মা

বাল্য বিয়ের ব’লি হয়ে, অকালে জীবন দিতে হলো টাঙ্গাইলের বাসাইলের ১৪ বছরের নুর নাহারকে। তার পরিবারের অভি’যোগ, স্বামী আর শ্বশুর বাড়ির অবহেলায় মৃ’ত্যু হয়েছে মেয়েটির। অভা’বের তাড়নায় প্রায় তিনগুণ বয়সী যার হাতে আদরের সন্তানটি তুলে দিয়েছিলেন সেই স্বামীর বি’রু’দ্ধেই মেয়ে হ-ত্যার অভি’যোগ উঠেছে।

 

নুর নাহারের মা বলেন, ‘আমার মেয়ে অনেক ক’ষ্ট নিয়ে মা’রা গেছে। আমি এর শা’স্তি চাই।’ভ্যানচালক বাবার মেধাবী সন্তান সে। নানাবাড়ির সহায়তায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়তো মেয়েটি। মাত্র ৩৫ দিন আগেই বিনা রেজিস্ট্রিতে বিয়ে হয় পাশের ফুলকি গ্রামের বিদেশ ফেরত রাজিব খানের সঙ্গে। বিয়ের রাতেই জনন অ’ঙ্গে শুরু হয় র’ক্তক্ষ’রণ।

 

নুর নাহারের স্বজনরা জানান, ‘শ্বাশুড়ি ও তার স্বামী কি একটা ওষুধ খাইয়েছিলো। তারা ঠিকভাবে চিকিৎসা করায়নি। আমরা এর সুষ্ঠু বি’চার চাই। অনেক অবহেলার পর, অবস্থার অবনতি হলে আনা হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। রবিবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃ’ত্যু হয় তার। তবে অভিযোগ মা’নতে নারাজ স্বামীর বাড়ির লোকজন।

 

নুর নাহারের স্বামী রাজিব খান বলেন, ‘তারে যে ভু’তে ‘ধরে’ছিলো এ কারণে সে খেতে পারতো না, কিছু ভালো লাগতো না তার। আমরা এক কবিরাজের কাছে নিয়ে গিয়েছিলাম।’ রাজিব খানের মা বলেন, ‘আমার ছেলে বিয়ে করে আনছে, এখন সে বড়ি লালটা খেয়েছে না সাদাটা খেয়েছে এটা তো আমি বলতে পারবো না।’

 

ময়’নাতদ’ন্ত শেষে তার নানার বাড়িতেই দা’ফন করা হয়েছে নুর নাহারকে। তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা শামছুন নাহার স্বপ্না।

 

এদিকে, টাঙ্গাইলের বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ বলেন, ‘বাদী তো কনফার্ম না কিভাবে মা’রা গেছে তার মেয়েটা। মা’রা গেছে মা-বাবার হেফা’জতে, শ্বশুর বাড়িতে না। তদ’ন্ত চলছে, ময়নাত’দন্ত রিপোর্ট পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারবো। অ’প্রাপ্ত বয়সে বিয়ে হওয়ায় এমন মৃ’ত্যু ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। বা’ল্যবিয়ে ব’ন্ধে এখনি জোরালো পদক্ষেপ নেয়ার দাবি স্থানীয়দের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *