Categories
জাতীয়

বাকিতে থ্রি-পিস বিক্রি করায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা জরিমানা!

মো. রতন মিয়া (৩৫)। দীর্ঘদিন ধরে অনলাইনে থ্রি-পিসের (মেয়েদের জামা) ব্যবসা করে আসছেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজে’লার ফুলকি ইউনিয়নের বালিয়া গ্রামে। তার শ্বশুরবাড়ি একই উপজে’লার কাউলজানি ইউনিয়নের বাদিয়াজান গ্রামে।

 

পরিচয়ের সূত্র ধরে সম্প্রতি বৃষ্টি নামের এক গৃহব’ধূর কাছে এক হাজার টাকা বাকিতে থ্রি-পিস বিক্রি করেন রতন। আর এতেই ঘ’টে বি’পদ। সেই পাওনা এক হাজার টাকা চাইতে গিয়ে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা জ’রিমানা দিতে হচ্ছে রতনকে।

 

সোমবার বিকালে স্থানীয় মাতবরদের আয়োজনে উপজে’লার বাদিয়াজান গ্রামের খালেক পী’রের বাড়িতে সা’লিশি বৈ’ঠকে এ জ’রিমানা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ওই গৃহব’ধূর সঙ্গে রতনের অ’বৈধ সম্পর্ক রয়েছে- এমন অ’ভিযোগ এনে স্থানীয় মাতবররা ওই গৃহব’ধূর স্বামীকে তালাক দিতে বা’ধ্য করেন।

 

তবে গৃহব’ধূ বৃষ্টি জানিয়েছেন, তার সঙ্গে রতনের কোনো সম্পর্ক নেই। স্থানীয় মাতবর ও তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের যোগসাজশে স্বামীকে দিয়ে সা’লিশি বৈঠকে তাকে তা’লাক দিতে বা’ধ্য করেছে।

 

এদিকে রতনের বাবা মোশারফ জ’রিমানার টাকা জোগাড়ের জন্য মাতবরদের কাছে এক মাস সময় চান; কিন্তু মাতবররা তার কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা রেখে বাকি টাকা দিতে ১৫ দিনের সময় বেঁ’ধে দেন।

 

একই সঙ্গে ওই গৃহব’ধূ সা’লিশ বৈ’ঠকে স্থানীয় কাজীর উপস্থিতিতে বিয়ের কাবিনের তিন লাখ টাকা স্বামীর কাছে দা’বি করবে না মর্মে তালাকনামায় স্বাক্ষর করেন। সা’লিশি বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ফুলকি ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য জামাল।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য ই’সমাইল হোসেন (সারোয়ার) ও মনিরুজ্জামান মনিরসহ স্থানীয় মাতবররা। রতন মিয়া জানান, তিনি অনলাইনে থ্রি-পিসের ব্যবসা করেন। এ কারণে বৃষ্টি নামের ওই গৃহব’ধূ তার কাছ থেকে সম্প্রতি একটি এক হাজার টাকা মূল্যের (বাকিতে) থ্রি-পিস ক্রয় করেন।

 

রোববার সকালে স্থানীয় বাজারে ওই গৃহব’ধূর কাছে তিনি পাওনা এক হাজার টাকা চান। এ সময় তার কাছে টাকা না থাকায় সন্ধ্যায় বাসায় যেতে বলেন টাকার জন্য। তিনি জানান, তিনি রাত ৮টার দিকে ওই গৃহব’ধূর বাসায় যান টাকার জন্য। টাকা নেয়ার পরপরই গৃহব’ধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজন অ’নৈতিক সম্পর্কের অ’ভিযোগ এনে তাকে মা’রপি’ট করে। পরদিন সা’লিশি বৈ’ঠকের মাধ্যমে তাকে দুই লাখ ৩০ হাজার টাকা জ’রিমানা করা হয়।

 

গৃহব’ধূ বৃষ্টি জানান, রতন মিয়ার সঙ্গে তার কোনো স’ম্পর্ক নেই। তিনি থ্রি-পিসের পাওনা এক হাজার টাকা নেয়ার জন্য তার বাসায় এসেছিলেন। ঘরের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা রতন মিয়াকে তার পাওনা এক হাজার টাকা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন রতন মিয়াকে ঘরের ভেতরে ধা’ক্কা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে বাইরে থেকে দরজা ব’ন্ধ করে দিয়ে চিৎ’কার করতে থাকে।

 

তিনি জানান, স্থানীয় মাতবররা এসে পরদিন সকালে সা’লিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত দিয়ে যান। সোমবার সা’লিশ বৈঠকের মাধ্যমে কাতার প্রবাসী তার স্বামী রফিককে তালাক দিতে বা’ধ্য করা হয়।

 

তিনি অ’ভিযোগ করেন, তার স্বামীকে তালাক দেয়ার জন্যই শ্বশুরবাড়ির লোকজন অ’বৈধ সম্পর্কের অ’ভিযোগ এনে সা’লিশি বৈ’ঠকের আয়োজন করে। এ বিষয়ে বাসাইল থা’নার ওসি হারুনুর রশীদ জানান, এ ঘ’টনায় মঙ্গলবার রতনের বাবা মোশারফ হোসেন একটি অ’ভিযোগ দা’য়ের করেছেন। এ ঘ’টনায় ত’দন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *