Categories
জাতীয়

এক ঘটনাই ভাগ্য খুলে দিল সেই আলোচিত রিকশাচালকের

ফজলুর রহমান। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অটোরিকশা চালাতেন তিনি। বাবা-মা, বোন ও দুই ভাগ্নির সংসারে একমাত্র উপার্জনক্ষম ফজলুর। তাদরে মুখে দু’মুখো খাবার তুলে দিতে কিছুদিন আগে ৮০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে রিকশাটি কিনেন তিনি।

 

এটিই ছিল একমাত্র সম্বল কিন্তু গত সোমবার (৫ অক্টোবর) জিগাতলা এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশা উচ্ছেদে অ’ভিযান চালায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। রাজধানীতে অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর এরই প্রেক্ষিতে ঘোষণা দিয়ে এ অ’ভিযান চালাচ্ছে সিটি কর্পোরেশন।

 

ফজলুর রহমান হয়তো সেই ঘোষণা জানতেন না বা জেনেও অমান্য করেছেন। ফলে তার রিকশা তুলে নিয়ে যায় সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা। একমাত্র সম্বলের জন্য কা’ন্নায় ভেঙে পড়েন ফজলুর। কা’ন্নাজ’রিত কন্ঠে বলেন, ’গাড়ি তো লইয়া গেল। ৮০ আজার ট্যাহার কিস্তি কি কই’রা দিমু? কি কই’রা খামু…?’ ’কি করমু, লা/য় দ/ড়ি দি/মু।’

 

তাঁর কা’ন্নার প্রধান কারণ ছিল সংকট’কালের অবলম্বনটি হা’রানো। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক গণমাধ্যমের তোলা তাঁর কা’ন্নার বেশকিছু ছবি ফেসবুকে ভাই’রাল হয়। ফজলুর রহমানের কা’ন্নার ছবি চোখে পড়ে স্বপ্ন’র নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান নাসিরের।

 

তিনি সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলার পর গতকাল বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সেই ফজলুরের সঙ্গে দেখা করেন স্বপ্ন’র হেড অব মা’র্কেটিং তানিম করিম, মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান শাহ মো. রিজভী রনী এবং মিডিয়া-পাবলিক রিলেশন ম্যানেজার কাম’রুজ্জামান মিলু। স্বপ্নের উদ্যোগে উদ্যোক্তা হওয়ার বিষয়টি জানার পর ফজলুর রহমান রাজি হয়ে যান। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি। কারণ তিনি এখন দুটি রিকশার মালিক। আরো একটি রিকশা একজন তাঁকে সহযোগিতা করবেন বলেও ফজলুর জানান।

 

রিকশাগুলো স্বপ্ন’র হোম ডেলিভা’রি সার্ভিসে কাজে লাগাতে চান ফজলুর রহমান, হতে চান একজন উদ্যেক্তা। সেইসঙ্গে স্বপ্ন’র অফার লেটারও হাতে তুলে নেন। এটি তাঁর হাতে বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ের এক রেস্তোরাঁয় স্বপ্ন’র পক্ষ থেকে হাতে তুলে দেন মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান শাহ মো. রিজভী রনী। এভাবেই স্বপ্নের উদ্যোগে উদ্যোক্তা হচ্ছেন এবার রিকশাচালক ফজলুর রহমান।

 

ফজলুর রহমান বলেন, আমা’র দেশের বাড়ি কুমিল্লা। একটা সময় সিনজির গ্যারেজে কাজ শিখতাম। তারপর টুকটাক করে টাকা জমিয়ে ধার করে রিকশাটা কিনেছিলাম। সেই রিকশা হা’রানোর পর কী’ ক’ষ্ট হচ্ছিল বোঝাতে পারবো না। কিন্তু আজ আমা’র খুব ভালো লাগছে। ভেতরের আনন্দটা এখন আর বোঝাতে পারব না। ভালো একজন উদ্যোক্তা হয়ে ব্যবসটা ভালো’ভাবে চালিয়ে যেতে চাই। স্বপ্নকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। অবশেষে হাসি ফুটেছে সেই ফজলুর রহমানের মুখে। খুশিতে চকচক করছে দুঃখ ভরা সেই চোখ দুটি।

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ভাই’রাল হয় সম্প্রতি সেটি হচ্ছে এক রিকশাচালক কা’ন্না মাখা মুখের ছবি রিক্সা চালকের নাম ফজলুর রহমান তিনি মূলত রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালাতেন। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের বর্তমানে চলছে অটোরিকশা উচ্ছেদ অ’ভিযান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের যেহেতু অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে ফজলুর রহমান শেখ হাসিনা জানতেন না জেনেও অমান্য করেছেন এমন ঘটনা ঘটিয়েছিলেন দিনে ফলে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা এবং এ ঘটনার কারণে কা’ন্নায় ভেঙে পড়েন সেই ফজলুর রহমান!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *