Categories
জাতীয়

সুযোগের ফায়দা তুলে নিজেই মামলা করালেন ভিপি

রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে নিজেই ধ’র্ষণ মামলা করিয়েছেন নুরু!
মহামারি করো’নাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ফলে ছাত্র রাজনীতিও কার্যত বন্ধ। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই ছাত্রনেতাদের কোন কর্মকাণ্ড নেই। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে ধ’র্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন নুরু। চলছে বিক্ষোভ সমাবেশ।

অনেকেই মনে করছেন, মামলা দায়েরের পরামর্শটা নূর নিজেই দিয়েছেন। কারণ ডাকসু পদ থেকে সরে যাওয়ার পর রাজনৈতিক আলোচনার বাইরে তিনি। দেশের মানুষের কাছে নিজের অবস্থান জানান দিতে দলের কর্মীদের দিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তিনি নিজের নামে মামলা দায়েরের পরামর্শ দিতে পারেন। কারণ নুরের বিরুদ্ধে মামলাটি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ করেননি, করেছেন তার নিজের সহযোদ্ধাই।

অনেকেই বলাবলি করছেন, রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে খুবই পারদর্শী নূরুল হক নূর। সাধারণ মানুষের আবেগকে ব্যবহার করে কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন নূর। সেটি ছিলো অরাজনৈতিক আন্দোলন। সেই আন্দোলনকে পুঁজি করে গড়ে তোলেন ‘বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ’ নামের একটি রাজনৈতিক প্লাটফর্ম। তবে সেটিতে খুব বেশি সুবিধা করতে পারেননি। ছিলেন আলোচনা বা সমালোচনার বাইরে। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে মামলা হয় নূরের বিরুদ্ধে। এতে আলোচনায় আসেন তিনি। বিভিন্ন সময়ে দেখা গেছে, নূর নিজের লোক দিয়ে ইস্যু তৈরি করে প্রতিপক্ষের উপর দোষ চাপান। এবারো তার ব্যতিক্রম নয়।

গত রোববার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী লালবাগ থানায় নুরুলসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ধ’র্ষণ মামলা করেন। কোতোয়ালি থানার মামলাটি একই ছাত্রী করেন। মামলার প্রধান আসামি বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন। তার বিরুদ্ধে ওই ছাত্রী বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধ’র্ষণ এবং পরে বিয়ে করতে রাজি না হওয়ার অভিযোগ আনেন। মামলায় নুরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি মীমাংসা করার নামে ওই ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে শাসিয়েছেন।

বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে তাদের ভক্তদের দিয়ে ওই ছাত্রীর নামে ‘উল্টাপাল্টা’ প্রচার করাবেন। পরবর্তীতে সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় নূরের বিরুদ্ধে অপহরণ, ধ’র্ষণ, ধ’র্ষণে সহযোগিতা ও ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। মামলাটি ওই একই ব্যক্তি করেছেন।

যদিও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট প্রমাণিত হয় যে, সস্তা জনপ্রিয়তা পেতে নুর নিজেই ধর্ষণ মামলাটি করিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হাসান আল মামুনের প্রেমিকার মাধ্যমে। কিন্তু গণমাধ্যমের সামনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে ধর্ষক নুর বলেন, ‘যেহেতু বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দল গঠনের দিকে আমি এগুচ্ছি। তাই আমার নিজ দলের অনেক সহযোদ্ধাই আমার প্রতিপক্ষে রূপান্তরিত হয়েছে। এরমধ্যে হাসান আল মামুন দলের ভেতর আলাদা গ্রুপ তৈরি করেছে বলে শুনেছি। মূলত ওরই প্রেমিকা মামলাটি করেছেন। এখানে আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হয়েছে। সরকারের এখানে তেমন কোন ভূমিকা আছে বলে মনে হচ্ছে না। অভ্যন্তরীন গ্রুপিং রাজনীতির বলি হয়েছি আমি। হাসান আল মামুনের প্রেমঘটিত বিষয়টি নিয়ে অনেকবার মীমাংসার বৈঠক পর্যন্ত করেছি। এখন মামুনের চক্রান্তে আমাকেই ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *