Categories
জাতীয়

মুসলিম বি”রোধী আইনের প্রতিবাদ করে বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকায় স্থান পেলেন বৃদ্ধা

ছবি কালেকশন

গত এক শতকের শীতলতম মরশুমে হাড় কাঁপানো ঠান্ডায় হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকারের চাপিয়ে দেওয়া মুসলিম বি”রোধী নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের (CAA) প্রতিবাদে দিল্লির শাহিনবাগে অবস্থান বি”ক্ষোভে বসেন বহু মহিলা। মুখে একগাল হাসি আর কাঁধে শাল জড়িয়ে সেই মহিলাদের ভিড়ে ছিলেন ৮২ বছরের বিলকিসও। তাঁবু খাটিয়ে নীরব প্রতিবাদে শামিল হওয়া কয়েক শো মহিলার মধ্যে নজর কাড়েন তিনিও।

 

 

মুসলিম বি”রোধী আইনের প্রতিবাদে ধীরে ধীরে আ”ন্দোলনের আঁচ ছড়িয়ে পড়ে গোটা ভারতে। তখন শাহিনবাগের দাদিদের কথা মুখে মুখে ফিরতে থাকে। মুসলিম বি”রোধী ওই আইনের প্রতিবাদ করে অশীতিপর বিলকিস এবার মার্কিন টাইম ম্যাগাজিনের বিচারে দুনিয়ার ১০০ জন সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বদের মধ্যে জায়গা করে নিলেন।

 

 

টাইম ম্যাগাজিনের হয়ে সাংবাদিক রানা আয়ুব কলম ধরেছিলেন বিলকিসের জন্য। তিনি নিজের কলামে লিখেছেন, “প্রান্তিক মানুষদের আওয়াজ হয়ে উঠেছিলেন বিলকিস। যখন মোদি জমানায় সংখ্যাগুরুর রাজনীতির চাপে মহিলা ও সংখ্যালঘুদের আওয়াজ দাবিয়ে রাখা হচ্ছিল। তখন প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে বিলকিসদের মতো মানুষরা।” দিল্লির শাহিনবাগে আন্দোলন চলে ১০১ দিন পর্যন্ত।

 

 

তবে জানুয়ারি মাসেই যখন শাহিনবাগের আ’ন্দোলনের কথা দেশের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়েছে সেইসময় দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বিলকিস বলেছিলেন, “আমাদের বয়স হয়েছে। কিন্তু এই আন্দোলন আমরা নিজেদের জন্য করছি না। বরং আমাদের সন্তানদের জন্য করছি। নাহলে কেন এত ঠান্ডার মধ্যে আমরা দিনরাত এক করে আন্দোলন চালাব?”

 

 

গত ২৬ জানুয়ারি সাধারণতন্ত্র দিবসে বিলকিস রোহিত ভেমুলা ও জুনেদ খানের মায়ের সঙ্গে শাহিনবাগে তার দেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। তারপর থেকে মুসলিমবি”রোধী আইনের প্রতিবাদকারী শাহিনবাগের দাদিদের আরও সম্মানের চোখে দেখতে শুরু করে ভারতবাসী।

 

তারপর ফেব্রুয়ারি মাসে যখন শাহিনবাগের আন্দোলনস্থল থেকে মাত্র ৫০ মিটার দূরে দাঁড়িয়ে এক হিন্দুত্ববাদী সন্ত্রাসী গুলি চালায় তখনও ভয় পাননি বিলকিস। বলেছিলেন, “বুলেটকে ভয় পাই না আমরা। আন্দোলন চালিয়ে যাব।

সূত্র ইনসাফ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *