Categories
জাতীয়

একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছেন সাদেক বাচ্চুর স্ত্রী

আম’রা একেবারে ‘সর্ব’স্বা’ন্ত’ হয়ে গেছি ভাই, আমা’র ছোট ছোট ছোট বাচ্চা, সব উনি সামলে রেখেছিলেন। হুট করে এভাবে চলে যাবেন, আম’রা ভাবতেও পারছি না। কী’ করবো, না করবো; কিছুই ভেবে পাচ্ছি না।’

 

বলতে বলতেই কা’ন্নায় ভে’ঙে পড়েন সদ্য প্রয়াত অ’ভিনেতা সাদেক বাচ্চুর স্ত্রী’ শাবনাজ। না ফেরার দেশে চলে গেছেন শক্তিমান এই অ’ভিনেতা। তালতলা কবস্থানে সমাহিত হয়েছেন। তার মৃ’ত্যুতে সবচেয়ে বেশি মু’ষড়ে পোরেছেন স্ত্রী’ শাহনাজ। সাদেক বাচ্চু নিজের ভাই-বোনদের মানুষ করতে গিয়ে মাত্র ১৫ বছর ৭ মাস বয়সে চাকরি নেন। বিয়ে করেন একেবারে ৪০ বছর পেরিয়ে গিয়ে। স্বামীর মৃ’ত্যুতে একেবারে ভেঙে পড়েছেন স্ত্রী’ শাহনাজ।

 

২০১৩ সালে সাদেক বাচ্চুকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। সে সময় ইউনাইটেড হাসপাতলে খরচ হয়েছিল ৩০ লাখ টাকা। যা সাদেক বাচ্চুর অবসরের প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে পরিশোধ করা হয়। এরপর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতা’লে চিকিৎসা। তারপরেও ফেরানো যায়নি সাদেক বাচ্চুকে। তিন অ’প্রাপ্ত ছে’লেমে’য়েকে রেখে না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি।

 

আজ মঙ্গলবার বিকেলে আলাপকালে দীর্ঘসময় তিনি কা’ন্নায় কথা বলতে পারছিলেন না শাবনাজ। ধাতস্ত হয়ে বলেন, ‘আমি কখনোই ভাবিনি উনি এভাবে চলে যাবেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। এই অসময়ে চলে গেলেন তিনি এখন আম’রা জানি না আমাদের কী’ হবে। আমা’র বড় মে’য়েটা মাত্র ইন্টার ফার্স্ট ইয়ার ফাইনাল দিয়েছে, ছোট মে’য়েটা মাত্র দশম শ্রেণিতে পোরে। একমাত্র ছোট ছে’লে, সে তো অনেক ছোট মাত্র সিক্সে পড়ে। আম’রা এখন কী’ভাবে চলবো, আমি কিছুই ভেবে পাচ্ছি না।’

 

শাহনাজ বলেন, ‘ডাক বিভাগের চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর কিছুটা টাকা সঞ্চিত হয়েছিল। কিন্তু মাত্র ৭ বছর আগে ২০১৩ সালে ব্রেইন স্ট্রো’ক করে, লাইফ সাপোর্টে চলে গিয়েছিলেন ৯ দিন। সে সময় ৩০ লাখ টাকা বিল দিয়ে আমা’র স্বামীকে সুস্থ করে নিয়ে এসেছিলাম। রিটায়ার্ড করার সমস্ত টাকাই শেষ হয়ে যায়। আমাদের সংসার চলছিল উনার পেনশনের টাকায়। অ’ভিনয়ের পারিশ্রমিক কিছুটা সহায়তা করেছে। এখন আমি বাচ্চাদের নিয়ে কোথায় যাবো?’

 

সাদেক বাচ্চুর দুই মে’য়ে—মেহ’জাবীন এবার এইচএসসি প্রথম বর্ষে এবং নওশিন দশম শ্রেণিতে পড়ে। একমাত্র ছে’লে সোয়ালেহিন পড়ছে ষষ্ঠ শ্রেণিতে। শাহনাজ বলেন, ‘এদেরকে মানুষ করতে হবে, সংসার চালাতে হবে। যেখানে উনার চিকিৎসা করাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল সেখানে সামনের অ’নিশ্চিত ভবিষ্যত ভেবে ভ’য় পাচ্ছি। ভিন্ন কোনো আয়ের উপায় নেই। উনি খুবই আত্মসম্মান নিয়ে চলতেন, পারলে সহযোগিতা করতেন, কখনো অর্থনৈতিক সহায়তা আমাদের প্রয়োজন হয়নি, সর্বশেষ উনার চিকিৎসা করাতে গিয়ে ধারদেনা হয়েছে, আমা’র ভাই পাশে দাঁড়িয়েছে সহযোগিতা করেছে।’

 

শাবনাজ বলেন, ‘আমা’র শ্বশুর শ্বাশুড়ি বেঁচে নেই, আমা’র বাবাও মা’রা গেছেন। বয়স হয়েছে আমা’র মায়ের। আমাদের একমাত্র থাকার জায়গা ছাড়া কোনো জায়গাই নেই। চলচ্চিত্র পরিবারের নিকট যে সহায়তার আশা করবো, এখন তো বাংলাদেশের চলচ্চিত্র কমে গেছে। সংগঠনগুলোর নিকট থেকে এই সময়টাতে সহায়তা আশা করতে পারি না। তবে আমা’র এই দুঃসময়ে জায়েদ ছে’লেটা আমা’র পাশে থেকে স’র্বা’ত্মক সহযোগিতা করে গেছে। করো’নার কারণে আসলে পাশে কাউকে পাইনি, কিন্তু সে আমা’র পাশে থেকে জানাজা, দাফন সব কাজে সহায়তা করেছে।’

 

মাত্র একটা দিন হলো স্বামী মা’রা গেছে, এই সময়টাতেও মা’থা ঠিকঠাক ভাবে কাজ করছে না শাবনাজের। সন্তানদের দিকেও তাকাতেও পারছেন না। তারপরেও মনে করেন, সর্ব’স্বা’ন্ত পরিবারটার পাশে প্রধানমন্ত্রী দাঁড়াতে পারেন। তিনি বলেন, ‘আসলে শেখ হাসিনার সরকার ছাড়া তো আর কেউ আমাদের পাশে দাঁড়াতে পারে না এখন। শুনেছি উনি দুঃস্থ শিল্পীদের সহায়তা করেন। আমা’র স্বামীর সহায়তার প্রয়োজন হয়নি। কিন্তু এখন আমাদের পরিবারটা কি এভাবে ভেসে যাবে?’

 

করো’নায় আ’ক্রান্ত হয়ে মহাখালীর ইউনিভা’র্সেল মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতা’লে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে শেষ নিঃশ্বা’স ত্যাগ করেন সাদেক বাচ্চু। এর আগে অ’সুস্থ অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতা’লে ভর্তি করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *