Categories
জাতীয়

বাংলাদেশ থেকে ১৫০০ টন ইলিশ নিয়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত!

আসন্ন দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা হিসেবে বাংলাদেশ থেকে ১ হাজার ৪৫০ টন ইলিশ মাছ ভারতে রফতানি হলেও অতিবৃষ্টি ও বন্যায় সরবরাহে ঘাটতি দেখিয়ে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত সরকার।

 

পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের বিষয়ে হিলির কাস্টমস কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে সিএন্ডএফ এজেন্ট শংকর দাস এ তথ্য জানিয়ে বলেন, সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন প্রদেশে অতিবৃষ্টি ও বন্যা হওয়ায় ভারতের যেসব অঞ্চলে পেঁয়াজ উৎপাদন হতো সেখানে পেঁয়াজের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। যার কারণে পেঁয়াজের সরবরাহ কমায় ভারতের বাজারেই পেঁয়াজের দাম বাড়ছে।

 

এ অবস্থায় পেঁয়াজের মূল্যবৃদ্ধি রুখতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ভারত সরকার হিলি কাস্টমসকে এ তথ্য জানিয়েছেন। সে মোতাবেক কাস্টমস কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে, সোমবার থেকে সব ধরনের পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ থাকবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত। এ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন এখনও জারি হয়নি, তবে অচিরেই জারি হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পেঁয়াজ আমদানির জন্য যেসব এলসি খোলা রয়েছে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে সেগুলোর বিপরীতেও কোনও পেঁয়াজ রফতানি হবে না।

 

হিলি স্থলবন্দরের পেঁয়াজ আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে ভারতীয় রফতানিকারক ও সিএন্ডএফ এজেন্ট আমাদের জানিয়েছেন যে ভারত কোনও পেঁয়াজ রফতানি করবে না। ভারত সরকার নাকি কাস্টমসকে নিষেধ করেছেন পেঁয়াজ রফতানি না করতে এবং পেঁয়াজ রফতানি করবে না বলেও বলেছে আমাদের। তাদের এই সিদ্ধান্তের কারণে আমাদের অনেক আমদানিকারকের বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ আমদানির জন্য এলসি খোলা রয়েছে। আমরা তো এখন বিপাকের মধ্যে পড়ে গেছি।

 

আমরা তাদের বলছি আমাদের যেসব এলসি খোলা রয়েছে সেগুলোর পেঁয়াজ রফতানির জন্য। আমাদের অনেক এলসির বিপরীতে অনেক ট্রাক মাল নিয়ে সড়কে দাঁড়িয়ে রয়েছে। এখন যদি তারা পেঁয়াজ না দেয় তাহলে আমাদের এই পেঁয়াজের কী অবস্থা হবে সেই চিন্তায় পড়েছি। এই যে আমাদের ক্ষতি, কার কাছে ক্ষতিপূরণ চাইবো? তাই বিষয়টি অতি সত্বর সরকারি পর্যায়ে বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।’

 

এদিকে আসন্ন দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা হিসেবে এবার ১ হাজার ৪৫০ টন ইলিশ মাছ ভারতে রফতানি হচ্ছে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে সমপরিমাণ ইলিশ রফতানির জন্য ৯টি দেশি প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত বছরও সরকার শারদীয় শুভেচ্ছা হিসেবে ভারতে ৫০০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দিয়েছিল। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

সূত্র জানিয়েছে, প্রতিকেজি ইলিশ ৮০০ টাকা দরে ভারতে রফতানি হবে বলে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে সরকার। এই দরে রফতানি করা প্রতিটি ইলিশের সাইজ হবে ১০০০ (এক কেজি) থেকে ১২০০ গ্রাম (এক কেজি ২০০ গ্রাম) ওজনের। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ভারতে ইলিশ রফতানির জন্য ২০০টি প্রতিষ্ঠান থেকে আবেদন জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাই করে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে ভারতে ইলিশ রফতানির জন্য চূড়ান্ত করেছে। এসব প্রতিষ্ঠান অধিক পরিমাণে ইলিশ স্থলপথে, বিশেষ করে বেনাপোল স্থলবন্দর ব্যবহার করে রফতানি করবে বলে জানা গেছে। তবে রফতানিকারক প্রতিষ্ঠান অন্য যেকোনও স্থলবন্দরও ব্যবহার করতে পারবেন।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ইলিশ রফতানির সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কী পরিমাণ ইলিশ রফতানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে তা আমি বলতে পারবো না। কারণ, বিষয়টি অন্য দফতর দেখভাল করে। বিষয়টি নিশ্চিত করতে বাণিজ্য সচিব ড. জাফর উদ্দিন, অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) ওবায়দুল আজম ও যুগ্ম সচিব (রফতানি অধিশাখা-১) জিনাত আরাকে বারবার ফোন দিলেও তারা কেউই কল রিসিভ করেননি। এর আগে গত বছর শারদীয় দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা হিসেবে ৫০০ টন ইলিশ ভারতে রফতানির অনুমতি দিয়েছিল বাংলাদেশ সরকার।

 

উল্লেখ, ২০১২ সালের ১ আগস্ট ইলিশসহ সব ধরনের মাছ রফতানি নিষিদ্ধ করে সরকার। পরে ওই বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর ইলিশ ছাড়া অন্য সব মাছ রফতানিতে অনুমতি দেওয়া হয়। ইলিশ রফতানি বন্ধ থাকলেও তা পাচার হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। পাচার বন্ধের কৌশল হিসেবে ইলিশ রফতানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।

 

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ইলিশ রফতানি করতে হলে সরকারের অনুমতি নিতে হয়। অনুমতি সাপেক্ষে বাংলাদেশ থেকে ইলিশ রফতানির সুযোগ দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবেই এবারের দুর্গাপূজায় শুভেচ্ছা হিসেবে সরকার ভারতে ১৪৫০ টন ইলিশ রফতানির অনুমতি দিয়েছে বলে জানা গেছে।

 

এদিকে ইলিশের ভরা মৌসুমে বাংলাদেশের বিভিন্ন নদী অববাহিকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বছরও জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ ধরা পড়ছে। সাগরেও ধরা পড়ছে টনে টনে ইলিশ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় আশা করছে, এ বছরও বাংলাদেশে সাড়ে ৫ লাখ টনের বেশি পরিমাণ ইলিশ উৎপাদিত হবে। ইলিশ অধ্যুষিত জেলা ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা, চাঁদপুর. বরিশাল ও পটুয়াখালীর জেলেরা এখন ইলিশ ধরার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সরকারের নানা প্রকার নজরদারি, নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিংসহ জেলেদের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ায় গত কয়েক বছর ধরেই ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *