Categories
বিনোদন

বাচ্চু ভাই ফোন করে বলতেন আমার ছবিটা একটু দেখিস: রিয়াজ

সমাপ্তি হয়ে গেল এক বর্ণিল অধ্যায়ের। নিভে গেল ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা সাদেক বাচ্চুর জীবন প্রদীপ। করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালেন এই অভিনেতা। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইল্লাহি রাজিউন।

 

সাদেক বাচ্চুর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে চলচ্চিত্রাঙ্গনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বরেণ্য এই অভিনেতাকে হারিয়ে শোক প্রকাশ করছেন তার ভক্ত ও অনুরাগীরা।সাদেক বাচ্চুর সঙ্গে অনেক সিনেমায় কাজ করেছেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। কখনো নিজের বাবা কখনো বা সিনেমায় তাকে রিয়াজ পেয়েছেন প্রেমিকার বাবা চরিত্রে। তবে পর্দার বাইরে সম্পর্কটা ছিলো ভাইয়ের মতো। রিয়াজকে পছন্দ করতেন, আদর করতেন।

 

সেই সম্পর্কের জায়গা থেকে রিয়াজকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জুরি বোর্ডে স্থান পাওয়ায়। রিয়াজ বলেন, ‘সম্ভবত সিনেমার মানুষ হিসেবে আমার সঙ্গেই সর্বশেষ বাচ্চু ভাই নিয়মিত কথা বলেছেন। উনি হাসপাতালে যাওয়ার আগে আগে আমাকে প্রায়ই কল দিয়েছেন রাতে। ফোন দিয়েই বলতেন ‘অনেক রাতে ফোন দিলাম তোমারে রিয়াজ, সরি’।

 

উনার অভিনীত একটি ছবি আছে এবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য জমা পড়েছে। তিনি বারবার বলতেন ‘আমার ছবিটা একটু দেখিস। দেখিস অভিনয়টা কেমন হলো।’ আমি বলতাম ভাই এসবের জন্য আপনার ফোন দেয়ার দরকার নেই। আপনার কাছে আমরা অভিনয় শিখেছি।

 

বোর্ড আপনাকে চেনে, আপনার অভিনয়ের মূল্যায়ণ অবশ্যই করা হবে। তিনি বলতেন, ‘না না না। সবই ঠিক আছে। কিন্তু দুনিয়াটা তো বদলে গেছে। তুই আছিস সেটা আমাদের জন্য আনন্দের, গর্বের। খুব ভালো কাজ করেছিস তুই সবসময়। তোর সঙ্গে কাজ করে আরাম পেয়েছি। সেই তুই আছিস বলেই বলছি। কিছু হোক না হোক তুই মন দিয়ে আমার ছবিটা দেখিস। একটু দেখিস আমার অভিনয়টা।’

 

এ নায়ক আরও বলেন, ‘আমার খুব ভালো লাগতো এই বয়সেও বাচ্চু ভাই নিজের প্রতি, নিজের ক্যারিয়ার ও অভিনয়ের প্রতি সিরিয়াস ছিলেন। তার আত্মবিশ্বাসটাও ছিলো দারুণ। উনি গুণি অভিনেতা। পুরস্কার দিয়ে তাকে মাপা যাবে না। সেটা উচিতও না।

এই ক’টা দিন তার সঙ্গে অনেক কথা হয়েছে। আমাদের সিনেমার সোনালী দিনের গল্প। আমাদের একসঙ্গে কাজ করার নানা গল্প। বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রিটা কেন এমন হলো? আমাদের কী করা উচিত এইসব। সেই মানুষটা এভাবে চলে গেলেন ভাবতেই পারছি না। ঘরের মানুষের মৃত্যুর মতো শোক বসে আছে মনের মধ্যে। দোয়া করি, আপনারাও দোয়া করবেন সবাই আমাদের বাচ্চু ভাইয়ের জন্য।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *