Categories
জাতীয়

দুবাইয়ে নারী পাচার: চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের ম্যানেজারও জড়িত!

দুবাইয়ে নারী পা’চারে জ’ড়িত থাকার অ’ভিযোগে জনপ্রিয় কোরিওগ্রাফার ও নৃত্যশিল্পী ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে গ্রে’প্তারের পর পা’চারে জ’ড়িত অনেকের নামই বেরিয়ে আসছে। তাদের মধ্যে চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের ম্যানেজার কাম কোরিওগ্রাফার গৌতমের নামও রয়েছে।

 

দুবাইয়ে ড্যান্স বারের মালিক আজম খান, তার ভাই নাজিম এবং এরশাদের কাছে নৃত্যশিল্পীদের তুলে দিতেন গৌতম। তিনি শোবিজ পাড়ায় অপু বিশ্বাসের ম্যানেজার ও কোরিওগ্রাফার হিসেবে পরিচিত। দুবাইয়ে নৃত্যশিল্পীদের পাচারের অ’ভিযোগে গ্রে’প্তার হওয়া অন্তত দুই আ’সামির জবানব’ন্দিতে গৌতমের নাম উঠে এসেছে।

 

তার পুরো নাম গৌতম সাহা। অবশ্য অপু বিশ্বাস বলেছেন, তিনি চলচ্চিত্রে অনেকের সঙ্গে কাজ করলেও গৌতম নামে তার কোনো ম্যানেজার নেই, কখনও ছিলও না। অবশ্য কোরিওগ্রাফার গৌতমসহ চলচ্চিত্র অঙ্গনে গৌতম নামের বেশ কয়েকজনকে চেনেন তিনি। তবে চলচ্চিত্র সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নারী পা’চারে অ’ভিযুক্ত গৌতমই অপু বিশ্বাসের ম্যানেজার। গৌতম ফোনে এই প্রতিবেদকে কাছে দা’বি করেন, কাজের ক্ষেত্রে ইভান শাহরিয়ার সোহাগসহ অনেককে চিনলেও দুবাইয়ে কোনো নৃত্যশিল্পীকে তিনি পাঠাননি।

 

তা ছাড়া তিনি যতবার বিদেশ গেছেন, তা রেকর্ড রয়েছে। মানব পা’চার মা’মলায় গ্রে’প্তার একাধিক আ’সামি তার নাম জানিয়েছেন জানালে তিনি তড়িঘড়ি ফোনটি কে’টে দেন। পরে কয়েকবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চে’ষ্টা করলেও তার মোবাইল ফোন ব্যস্ত দেখা যায়। সিআইডি জানায়, গত জুলাই মাসে দুবাইয়ে বাংলাদেশি আজম খানের মালিকানাধীন ড্যান্স বার থেকে পা’চার হওয়া একাধিক নারীকে উ’দ্ধার করা হয়। এরপর দুবাই পু’লিশের তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে গ্রে’প্তার করা হয় আজম খান ও তার চার সহযোগীকে। তাদের বি’রুদ্ধে লালবাগ থা’নায় মাম’লা হয়।

 

সর্বশেষ ওই মা’মলায় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত কোরিওগ্রাফার ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে গ্রে’প্তার করা হয়। শনিবার আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গ্রে’প্তার আ’সামিদের মধ্যে এ পর্যন্ত আজম খান ছাড়াও তার এজেন্ট ইয়াসিন ও নির্মল সরকার আদালতে জবানব’ন্দি দিয়েছেন। এরপর ইয়াসিন ও নির্মল সরকারের জবানব’ন্দিতে গৌতমের নাম উঠে আসে। সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মোহা’ম্মদ রেজাউল হায়দার বলেন, তিন আ’সামির জবানব’ন্দিতে দুবাইয়ে নারী পা’চারের সঙ্গে জ’ড়িত অনেকের নাম উঠে এসেছে। তাদের বি’রুদ্ধে আ’ইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ইভান শাহরিয়ার সোহাগকে গ্রে’প্তার করা হয়েছে।

 

সিআইডি সূত্র জানায়, আ’সামি ইয়াছিন সিআইডির জি’জ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানব’ন্দিতে বলেছেন, দুবাইয়ে নারীদের নেওয়ার কাজে সহায়তা করে আজম খানের ভাই এরশাদ, আলমগীর, স্বপন ও অনিক। দেশ থেকে এরশাদ ও আজমদের নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন ড্যান্স ক্লাব থেকে ‘আর্টিস্ট’ দেয় নায়িকা অপু বিশ্বাসের ম্যানেজার গৌতম, আক্তার, সোহাগ, রাসেল ও অপূর্ব।

 

নির্মল সরকার সিআইডির জি’জ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানব’ন্দিতে বলেন, দুবাইয়ে ড্যান্স বারের মালিক আজম খানের ভাই নাজিম এক দিন তার ড্যান্স একাডেমিতে যান। সেখানে মেয়েদের নাচ দেখে তিনি সন্তুষ্ট হন। নির্মল সরকার তাকে জানান, নায়িকা অপু বিশ্বাসের ম্যানেজার গৌতম ছাড়াও আক্তার, সোহাগ, অপূর্ব তাকে আর্টিস্ট সরবরাহ করেন। নির্মল সরকার জবানব’ন্দিতে আরও জানান, নির্মল ড্যান্স একাডেমি নামে তার একটি নাচের প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরপর সেখান থেকে নাজিমের কথায় দু’জন মেয়েকে দুবাইয়ে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। এজন্য তিনি ৩০ হাজার টাকা পান।

 

এ ছাড়া মাইনুদ্দিন, সজীব, ইভান শাহরিয়ার সোহাগ, ওয়াসিম, জসিম, সোহেল রহমান, ওয়াসেক মুস্তাকিনুর রহমান, আনিসুল ইসলাম হিরুসহ অনেকেই তার কাছে আর্টিস্ট চায়। তিনি তাদের সঙ্গে আর্টিস্টদের যোগাযোগ করিয়ে দিতেন। পরে দু’জন মেয়ে তাকে জানায়, চু’ক্তি অনুযায়ী তারা কাজ ও বেতন পাচ্ছে না। তাদের অ’নৈতিক কাজে বা’ধ্য করা হয়। এরপর তিনি বুঝতে পারেন এই জগৎ খা’রাপ। তখন তিনি নিজের ড্যান্স একাডেমি ব’ন্ধ করে দেড় বছর ধরে রিকশা চালিয়ে সংসার খরচ চালাচ্ছেন। পা’চারের মূল হোতা আজম খান জবানব’ন্দিতে বলেছেন, লালবাগের স্বপন, বংশালের আনোয়ার হোসেন ওরফে ময়না, আলামিন ওরফে ডায়মন্ড, চট্টগ্রামের মাহফুজ ও ময়মনসিংহের অনিক তাকে মেয়ে সং’গ্রহের কাজে সাহায্য করে।

 

তার দুই ভাই এরশাদ, আজমও বিভিন্ন মাধ্যমে মেয়ে সং’গ্রহ করত। বাড্ডার সজীব ও ময়মনসিংহের অনিকেরও দুবাইয়ে ড্যান্স বার রয়েছে। সিআইডির অর্গানাইজড ক্রা’ইম বিভাগের একজন দায়িত্বশীল কর্মক’র্তা বলেন, দুবাইয়ে ড্যান্স বারের মালিক আজম খান, তার ভাই নাজিম ও এরশাদের চক্রটি মূলত গায়েহলুদ, বিয়ে, জন্মদিনসহ নানা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নৃত্যশিল্পীদের টা’র্গেট করত।

 

এজন্য দেশে বিভিন্ন ড্যান্স ক্লাব ও একাডেমিতে তাদের নিজস্ব এজেন্ট রয়েছে। তারা দেশের বেশ কয়েকজন কোরিওগ্রাফার ও নৃত্যশিল্পীর মাধ্যমে কিশোরী ও তরুণী নৃত্যশিল্পীদের চাকরি দেওয়ার নাম করে দুবাইয়ে নিয়ে অ’নৈতিক কাজে বা’ধ্য করত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *