Categories
জাতীয়

২১ দিনের মেয়েকে দেখা হলো না তারেকের, কবরের পাশে স্ত্রীর আহাজারি

মাত্র ২১ দিন আগে কন্যাসন্তানের বাবা হন তারেক হোসেন কাউয়ুম। এরমধ্যে তার বড় ভাইয়ের ঘরেও একটি কন্যাসন্তান আসে। ঢাকায় থাকায় নিজের সন্তানকে না দেখলেও বড় ভাইয়ের মেয়েকে দেখতে উত্তরার একটি হাসপাতালে ছুটে যান তিনি। কিন্তু জন্মের চারদিন পর সেই নবজাতকটি মা’রা যায়।

ভাইয়ের মেয়ের লা’শ অ্যাম্বুলেন্সে নিয়ে পরিবারের পাঁচজন গ্রামের বাড়ি ঝালকাঠির উদ্দেশে রওনা হন। পথে তাদেরও হতে হলো লা’শ। প্রিয় সন্তানের মুখ প্রথমবারের মতো দেখা হলো না তারেকের। বুধবার বিকেলে বরিশালের উজিরপুর উপজেলার আটিপাড়া এলাকায় বাস-অ্যাম্বুলেন্স-কাভার্ডভ্যানের ত্রিমুখী সংঘ’র্ষে তারেকসহ ছয়জন নি’হত হন। একই পরিবারের পাঁচজনের মৃ’ত্যুতে শো’কের মা’ত’ম চলছে ঝালকাঠি সদর উপজেলার বাউকাঠিতে।

নি’হতের স্বজনরা জানান, সন্তান জন্মের পাঁচদিন আগে চাকরিতে যোগ দিতে ঢাকায় যান তারেক। সন্তান জন্মের পর সরাসরি তার মুখ দেখা হয়নি। মোবাইলে ছবি দেখেই খুশি ছিল। প্রিয় সন্তানকে ছুঁয়ে দেখা হলো না তার।

 

স্বামী, ভাইসহ পরিবারের ছয়জনকে হারিয়ে নির্বাক তারেকের স্ত্রী ঝিলিমিল আক্তার মরিয়ম। কোলে ২১ দিন বয়সের সন্তান উম্মে ফাতিমাকে নিয়ে কবরের পাশে আ’হাজারি করছেন। কান্না যেন থামছে না মরিয়মের। সন্তানের মুখের দিকে তাকাচ্ছেন, আর চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরছে অঝোরে। এদিকে দু’র্ঘট’নার খবর শুনে বুধবার সন্ধ্যার পর থেকেই নি’হতদের বাড়িতে ভিড় করেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন স্থান থেকে আ’ত্মীয়স্বজনরাও আসেন নিহ’তের পরিবারের লোকজনকে সান্ত্বনা দিতে। তাদের কা’ন্নায় বাতাস ভা’রী হয়ে যায়।

 

রাজধানীর উত্তরার শিন শিন জাপান হাসপাতাল থেকে বুধবার ভোরে অ্যাম্বুলেন্সে নবজাতকের লা’শ নিয়ে ঝালকাঠির বাউকাঠি গ্রামে আসার পথে হৃ’দয়বি’দারক এ ঘটনাটি ঘটে। স্বজনহারাদের আহাজারি দেখে প্রতিবেশীরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। তারাও এমন মৃ’ত্যুকে কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না।

 

নি’হতরা হলেন- বাউকাঠি গ্রামের তারেক হোসেন কাউয়ুম, তার বড় ভাই আরিফ হোসেন, মা কহিনুর বেগম, ছোট বোন শিউলী বেগম ও ভাইয়ের শ্যালক নজরুল ইসলাম। অ্যাম্বুলেন্সে ছিল আরিফের মৃ’ত চারদিন বয়সের কন্যাসন্তান।বাউকাঠি গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে তারেক ও আরিফ ঢাকা উইনডে ওয়াশিং কোম্পানিতে চাকরি করতেন। তারা ঢাকাতেই থাকতেন। আরিফের স্ত্রী তামান্না আক্তার তিন্নি সন্তান প্র’সবের পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

 

বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির পাশের মাদরাসা মাঠে নিহ’তদের মধ্যে পাঁচজনের জা’নাজা হয়। এতে অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পরে পারিবারিক ক’বরস্থানে তাদের দা’ফন করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *