Categories
জাতীয়

নারায়ণগঞ্জে মসজিদে বিস্ফোরণ: স্বামী-সন্তানকে হারিয়ে দিশাহারা ইমামের স্ত্রী

দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে বায়তুস সালাহ মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করছিলেন হাফেজ দেলোয়ার হোসেন। দুই ছেলে সহ দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লার তল্লা এলাকায় বসবাস করছিলেন তিনি। প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতেও ইমামতি শেষে মোনাজাত পড়াচ্ছিলেন হাফেজ দেলোয়ার।

 

কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস খানিক পরেই মসজিদে বিস্ফোরণে বড় ছেলে জোনায়েদ হোসেনসহ প্রাণ হারান তিনি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন দেলোয়ার। স্বামী ও বড় সন্তানকে হারিয়ে অবুঝ চার সন্তান নিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন ইমামের স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার। পরিবারটিতে চলছে শোকের মাতম।

 

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের মৃত মৌলভী শফিকুর রহমানের একমাত্র ছেলে হাফেজ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া তার দুই ছেলে নিউ খানপুর হাসপাতাল রোড কাওমি মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণীর ছাত্র জোনায়েদ হোসেন (১৭) ও ২য় ছেলে একই এলাকার জামেয়া হাজী সাইদুদ্দিন হাফেজিয়া মাদ্রাসার ছাত্র হাফেজ জাকারিয়াকে (১৩) নিয়ে ওই এলাকায় দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করে আসছিলেন।

 

নিহত হাফেজ দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়া কালির বাজার আমলাপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা থেকে লেখাপড়া শেষ করে বাইতুস সালাহ মসজিদে বিগত প্রায় ২৫ বছর ধরে ইমামতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

 

দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার পিতা মৃত মৌলভী শফিকুর রহমান ভূঁইয়াও একই এলাকার তল্লা বড় মসজিদে দীর্ঘ ৪০ বছর মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেন। নিহত দেলোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার দুই ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে তার সঙ্গে একই ঘটনায় নিহত হন। তার বড় মেয়ে সুমাইয়া আক্তার নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় আলীম ২য় বর্ষে অধ্যয়নরত, ২য় মেয়ে সুরাইয়া আক্তার একই মাদ্রাসার ৩য় শ্রেণীর ছাত্রী।

 

এছাড়াও ফাইজা আক্তার নামে তার ৪ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। তার ২য় ছেলে ওই দিন এ মসজিদে উপস্থিত না থাকায় প্রাণে রক্ষা পায়। নিহত ইমামের স্ত্রী ফাহমিদা আক্তার জানান, বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ পূর্বে তার স্বামী তাকে মোবাইল ফোনে জানান, আমার এখানে আর ভাল লাগছে না। ২/১ দিনের মধ্যে অসুস্থ বড় ছেলে জোনায়েদ হোসেনকে নিয়ে চাকরি ছেড়ে একেবারে বাড়ি চলে আসবো। সহায় সম্বলহীন একমাত্র কর্মক্ষম স্বামী ও বড় ছেলেকে হারিয়ে পরিবারটি এখন দিশাহারা।

 

তারা সরকারের নিকট সহায়তা কামনা করেছেন। ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নাজমুল হাছান ভূঁইয়া বাছির জানান, হাফেজ দেলোয়ার হোসেন ও তার ছেলে জোনায়েদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানাচ্ছি। পাশাপাশি ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করে যাবো। এছাড়াও তিনি অসহায় পরিবারটিকে সহায়তা করার জন্য সরকারের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *