Categories
জাতীয়

ইজ্জত রক্ষায় নদীতে ঝাঁপ দিলো এতিম কিশোরী

লঞ্চ স্টাফদের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে মেঘনা নদীতে ঝাঁ’প দিলেন ভোলার তজুমদ্দিনের এক কিশোরী। প্রায় ৩ ঘণ্টা নদীতে ভাসার পর জেলেদের সহায়তায় ফিরে পান নতুন জীবন।১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরী কাজের স’ন্ধানে কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চের যাত্রী হয়ে ঢাকায় যাওয়ার পথে গত শনিবার সন্ধ্যায় তজমুদ্দিনের ভুঁইয়া গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে লঞ্চ-স্টাফরা তাকে উ’দ্ধার না করেই গন্তব্য ঢাকায় চলে যায়। বর্তমানে তিনি তজুমদ্দিন উপজে’লা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে। মেঘনার মধ্যবর্তী তেলিয়ার চরের কবির হোসেনের মেয়ে ওই কিশোরী।হাসপাতালে ভর্তি কিশোরী জানান, কাজের স’ন্ধানে ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে শনিবার সন্ধ্যায় তজুমদ্দিন ঘাট থেকে কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চে উঠেন। লঞ্চে উঠার পর থেকেই কয়েকজন স্টাফ তাকে বিভিন্ন কুপ্রস্তাব দেয় এবং উ’ত্যক্ত করতে থাকে। এক পর্যায়ে লঞ্চের কেবিনে ঢোকানের জন্য টা’না-হেঁ’চড়া শুরু করলে নিরুপায় হয়ে মেঘনা নদীতে ঝাঁ’প দেন তিনি।

লঞ্চ ক’র্তৃপক্ষ তাকে উ’দ্ধার করতে একটি বয়া ফেললেও পানির স্রোত বেশি থাকায় বয়া ধরতে পারেনি। পরবর্তীতে তাকে উ’দ্ধার না করেই ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যায় লঞ্চটি। নদীতে ঝাঁ’প দেয়ার প্রায় ৩ ঘণ্টা পর জেলেদের ট্রলার এসে তাকে উ’দ্ধার করে তজুমদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি করে।উ’দ্ধার করা নৌকার জেলে রায়হান জানান, তারা নদীতে মাছ ধরার জন্য ট্রলার প্রস্তুত করছিলেন। এমন সময় নদীর মাঝে মেয়েটির ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার শুনে তারা এগিয়ে যান এবং মেয়েটিকে উ’দ্ধার করে। পরে তাকে মিজান তালুকদারসহ স্থানীয়রা হাসপাতালে ভর্তি করে।

তজুমদ্দিন উপজে’লা ভাইস চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন পোদ্দার জানান, জেলেরা উদ্ধারের পর বিষয়টি তাকে জানায়। পরে তিনি ইউএনও এবং ওসির সাথে কথা বলে হাসপাতাল ভর্তি করান। তার সামনেও লঞ্চ স্টাফদের টা’না হেঁচড়ার কথা মেয়েটি বলেছে।উপজে’লা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মক’র্তা ডা. কবির সোহেল জানান, কিশোরী নদীতে ঝাঁ’প দেয়ার সময় ডান হাতে আ’ঘাত পেয়েছে। জেলেরা নদী থেকে তাকে উ’দ্ধার করে হাসপাতালে আনার পর থেকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। বর্তমানে ঝুঁ’কিমু’ক্ত আছে।

তজুমদ্দিন থা’নার ওসি এস এম জিয়াউল হক জানান, চিকিৎসা শেষে কিশোরীর বক্তব্য নেয়ার পর আ’ইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া অভিভাকদের খুঁ’জে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।তজুমদ্দিন উপজে’লা নির্বাহী অফিসার আল নোমান জানান, কিশোরীকে সুস্থ করতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে হাসপাতালকে বলা হয়েছে। মেয়ের বক্তব্য অনুযায়ী দা’য়ীদের চিহ্নিত করে শা’স্তির ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে লঞ্চের সকল স্টাফদের ডেকে পাঠানো হবে।

কর্ণফুলী-১৩ লঞ্চের মালিক মো. ছালাউদ্দিন মিয়া জানান, লঞ্চের কোন স্টাফ এ ধরনের ঘ’টনার সাথে জ’ড়িত ছিল না। মেয়েটি ঝাঁ’প দেয়ার পর লঞ্চ থেকে বয়া ফেলা হয়েছিল। ধরতে পারেনি। সাথে সাথে অন্য একটি জেলে ট্রলারে তাকে উ’দ্ধার করা হয়েছে।লঞ্চ স্টাফদের দেয়া তথ্যের বরাত দিয়ে তিনি আরও বলেন, ওই কিশোরী ইঞ্জিন রুমের কাছে সিট নিয়েছিল। তার পাশে সিট নেয়া কিছু ছেলে মেয়েটিকে বি’রক্ত করছিল বলে স্টাফরা জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *