Categories
শিক্ষা

সামর্থ্যের অভাবে অনলাইন ক্লাস করতে পারছে না বিশ্বের অনেক শিশুই

মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে বন্ধ বিশ্বের প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে অনেক দেশে। কিন্তু দূরশিক্ষণে অংশ নেয়ার সামর্থ্য না থাকায় শিক্ষা বঞ্চিত হয়েছে বিশ্বের ৪৬ কোটি ৩০ লাখের বেশি শিশু শিক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ইউনিসেফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, দূর শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নেয়ার মতো কারিগরি এবং প্রযুক্তিগত সুবিধা নিশ্চিতের সামর্থ্য নেই বিশ্বের এক তৃতীয়াংশ শিশুশিক্ষার্থীর।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক হেনরিয়েত্তা ফোরে বলেন, গেলো কয়েক মাস ধরে বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যাকে বৈশ্বিক শিক্ষার জরুরি অবস্থা বলে আখ্যা দেন তিনি।

বলেন, এর ফলে সমাজে, অর্থনীতিতে যে বিরূপ প্রভাব পড়ছে তা মোকাবিলায় আগামী কয়েক দশক লেগে যাবে।

করোনা ভাইরাসের কারণে শিক্ষা কার্যক্রম যে হারে বাধাগ্রস্ত হয়েছে তা ইতিহাসে প্রথম। জুলাইয়ের মাঝামাঝি পর্যন্ত ১৬০টি দেশের প্রায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেড়শ’কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা। জানিয়েছে জাতিসংঘ।

জুলাইয়ে এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন জানায়, প্রায় ১ কোটি শিশুশিক্ষার্থী আর কখনোই বিদ্যালয়ে ফিরতে পারবে না। করোনা মহামারির কারণে শিক্ষা বাজেট কমানো এবং ক্রমবর্ধমান দরিদ্রতাকে এর জন্য দায়ী করা হয়।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণরোধে বিশ্বের বহুদেশ তাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে অনলাইনে স্থনান্তর করে। কিন্তু ইউনিসেফ বলছে, অনলাইন কার্যক্রম শুধুমাত্র ধনী ও গরিব শিক্ষার্থীর মধ্যকার বৈষম্যকে আরো বিস্তৃত করেছে।

শিশুদের অনলাইনে শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার বিষয়টিকে ভৌগলিক অবস্থান থেকে তুলে ধরা হয়েছে। বলা হয়, ইউরোপের শিক্ষার্থীদের চেয়ে এক্ষেত্রে আফ্রিকা এবং এশিয়ার শিক্ষার্থীরা বহুগুণ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবহারের সহজলভ্যতা, রেডিও, টেলিভিশন দেখার সুযোগকে ভিত্তি ধরে শতাধিক দেশে এ জরিপ পরিচালনা করা হয়।

যেসব শিশুরা অনলাইন শিক্ষাক্রমে অংশ নিতে পেরেছে তাদেরও নানারকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে। ইউনিসেফ জানায়, পড়াশোনার উপযোগী বাসস্থান ছিল না কারো কারো। বাড়ির কাজের চাপ ছিল শিশুদের ওপর। এছাড়া, কম্পিউটারে বা প্রযুক্তিগত কোনো সমস্যা হলে তা সমাধানে তাদের অনেক বেগ পেতে হয়েছে।

পূর্ব এবং দক্ষিণ আফ্রিকার ৬ কোটি ৭০ লাখ, পশ্চিম এবং মধ্য আফ্রিকার ৫ কোটি ৪০ লাখ, উপসাগরীয় এবং পূর্ব এশিয়ার ৮ কোটি, মধ্যপাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার ৩ কোটি ৭০ লাখ, দক্ষিণ এশিয়ায় ১৪ কোটি ৭০ লাখ এবং ল্যাটিন এবং ক্যারবিয়ান অঞ্চলের ১ কোটি ৩০ লাখ শিশু শিক্ষার্থী ভার্চুয়াল শিক্ষা কার্যক্রমে সামর্থ্যের অভাবে অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে কতো সংখ্যক শিশু শিক্ষার্থী করোনার কারণে শিক্ষা বঞ্চিত হয়েছে তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। বিশ্বে করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক মেরুকরণ হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন শিক্ষাবিদরাও।

বিভিন্ন দেশে নতুন শিক্ষাবর্ষ আসন্ন। অনেকে দেশ পুরানো শিক্ষা পদ্ধতিতে শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা করছে। ইউনিসেফ সরকার প্রধানদের আহ্বান জানিয়েছে, লকডাউন শিথিলের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার বিষয়ে নিরাপত্তাকে যেন প্রাধান্য দেয়া হয়।

যেসব দেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হচ্ছে না তারা যেনো সামর্থ্যহীন শিশুদের অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়-প্রতিবেদনে সেই আহ্বানও জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *