Categories
জাতীয়

গরু চুরি করলেও কি রশি বেঁধে আনতে পারেন, প্রশ্ন ব্যারিস্টার সুমনের

কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাংয়ে গরু চু’রির অভি’যোগে বৃদ্ধ মা ও যুবতী মেয়েকে কোমরে রশি বেঁ’ধে মা’রধ’রের ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেছেন, ‘গরু চু’রি ওনারা করেছিলেন কি-না জানি না। কিন্তু একটা কথা বলতে চাই, দেশের যে আ’ইন এ আ’ইনে কোথাও নেই গরু চু’রির অভি’যোগ থাকলেও বা গরু চু’রি করলেও আপনি এভাবে জনসম্মুখে মহিলাকে রশি দিয়ে বেঁ’ধে নিয়ে আসতে পারেন?’

 

রোববার (২৩ আগস্ট) বিকালে নিজস্ব ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ কথা বলেন।এরপর তিনি হারবাংয়ে গরু চু’রির অভি’যোগে বৃদ্ধ মা ও যুবতী মেয়েকে কোমরে রশি বেঁধে মা’র’ধ’রের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নিতে স্থানীয় প্রশাসন ও পু’লিশের প্রতি আহ্বান জানান। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, অ’ন্যথায় বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টের নজরে আনা হবে।

 

এর আগে গত শনিবার রাতে কক্সবাজারের চকরিয়ার হারবাংয়ে গরু চু’রির অভি’যোগে বৃ’দ্ধ মা ও যুবতী মেয়েকে কোমরে রশি বেঁ’ধে মা’রতে মা’রতে এলাকায় ঘুরিয়েছে স্থানীয় লোকজন। পরে সেখান থেকে তাদের হারবাং ইউনিয়ন পরিষদে এনে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ রকম একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

 

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ‘আমি জানি না যে, কী হইছিল ওই জায়গায়, গরু চু’রি ওনারা করেছিলন কি-না। কিন্তু একটা কথা বলতে চাই, দেশের যে আইন এ আ’ইনে কোথাও নেই গরু চু’রির অভি’যোগ থাকলে বা গরু চু’রি করলেও আপনি এভাবে জনসম্মুখে মহিলাকে রশি দিয়ে বেঁ’ধে নিয়ে আসতে পারেন।’

‘আমি কক্সবাজার প্রশাসনের কাছে বলতে চাই, আপনারা তড়িৎ এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নেন, নইলে আমরা দরকার হলে প্রয়োজনে হাইকোর্টে নিয়ে আসবো। কারণ এই যে মা-মেয়েকে রশি দিয়ে বেঁ’ধে নিয়ে এসেছেন চেয়ারম্যান অফিসে, এ ছবিটা যখন আমাদের চোখের সামনে আসছে মনে হচ্ছে যে সারাদেশের মা বোনদের এভাবে র’শি দিয়ে টে’নে নিয়ে আসছেন আপনারা।’

 

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আমরা চাই না প্রতিটা জিনিসকে হাইকোর্টের নজরে নিয়ে আসতে। যদি আপনারা ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, কক্সবাজারের প্রশাসন যদি ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাহলে আমরা এটাকে হাইকোর্টের নজরে আনতে চাই না। যদি হারবাং ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের বি’রু’দ্ধে আপনারা তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন তাহলে শেষ পর্যন্ত আমরা এটাকে হাইকোর্টে নিয়ে আসতে বা’ধ্য হবো। আমি প্রশাসন এবং এখানে যিনি ডিআইজি আছেন তার দৃষ্টি আ’কর্ষণ করে বলছি যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।’

 

এ ঘটনায় গরুর মালিক চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. মাহবুবুল হক চকরিয়া থানায় মা’মলা করেছেন। মাম’লায় দুই নারী এবং অ’জ্ঞা’ত সিনএজি চালকসহ পাঁচজনকে আসা’মি করা হয়েছে। পাঁচজনই বর্তমানে কা’রাগা’রে রয়েছেন।

 

এদিকে মা-মেয়েকে কো’মরে র’শি বেঁ’ধে প্রকাশ্যে ঘো’রানোর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাই’রাল হলে স’মালোচনার ঝড় ওঠে। ভিডিওতে মা-মেয়েকে রশি দিয়ে বেঁধে মা’র’তে মা’রতে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এ সময় ভিডিওতে ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদারকেও দেখা গেছে।

 

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, গরু চো’রদের আ’টক করে পে’টা’নো এবং রশি দিয়ে বেঁ’ধে প্র’কাশ্যে ঘোরানোর খবর পাওয়ার পর হারবাং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মিরানুল হক গ্রাম্য চৌকিদার পাঠিয়ে জনতার রোষানল থেকে তাদের উ’দ্ধার করে পরিষদে নিয়ে আসেন। এর পর তাদের হারবাং ফাঁড়ির পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। পরে গরুর মালিকের করা মা’মলায় তাদের গ্রে’ফতার দেখিয়ে আ’দালতে নেয়া হয়। এ সময় আ’দালত তাদের জে’লহাজ’তে প্রেরণের নির্দেশ দেন।

 

ওই মা’মলার আসা’মিরা হলেন, কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার বারবাকিয়া ইউনিয়নের তিন নম্বর ওয়ার্ডের মোহাম্মদ ছুট্টু (২৭), চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কুসুমপুর ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের শান্তিরহাট এলাকার শহীদের কলোনীর পারভীন আক্তার (৪০), মো. এমরান (২১), মেয়ে সেলিনা আক্তার শেলি (২৮) ও রোজি আক্তার (২৩)। প্রথমজন ছাড়া তিন নারী ও এক পুরুষ একই পরিবারের সদস্য।

 

হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) পারসিত চা’কমা বলেন, হারবাং পুলিশ ফাঁড়ি আর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন পাশাপাশি। লোকজন ওই মা-মেয়েসহ সবাইকে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসলে পুলিশ তাদের উ’দ্ধা’র করে। এ সময় তাদের হে’ফাজত থেকে একটি স্প্রে’র বোত’ল, বাট ছাড়া একটি ছো’রা, একটি কালো স্ক’চ’টেপ, একটি মোবাইল ও গাড়ির চাবি জ’ব্দ করা হয়। এ ঘটনায় গরুর মালিক বা’দী হয়ে চকরিয়া থানায় মা’মলা করলে পরে তাদের আ’দালতে প্রেরণ করা হয়। আ’দালত তাদের কা’রাগা’রে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান বলেন, গরু চু’রির ঘটনা যেমন অপ’রা’ধ, তেমন আই’নের দৃষ্টিতেও গর্হি’ত অ’প’রাধ নারীর প্রতি অ’মান’বিকতা। তাই কারা নারীদের ওপর এমন গর্হিত কাজ করেছে, তাদের শনা’ক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের বি’রু’দ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকে বিষয়টিকে হারবাং ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামের ষ’ড়য’ন্ত্র বলে উল্লেখ করেন। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চেয়ারম্যানের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *