Categories
বিনোদন

চুল কেটে ছোট করায় টিকটক অপুর মন খারাপ: আইনজীবী

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর মাদ্রাসাছাত্র ইয়াছিন আরাফাত অপু। অভাবের কারণে পড়াশোনা করতে পারেনি বেশী দূর। এরপর চাকরি নেন একটি সেলুনে। সেখান থেকে কয়েকজন বন্ধুর মাধ্যমে জানতে পারে মোবাইলভিত্তিক অ্যাপস টিকটক ও লাইকি সম্পর্কে।

 

এরপর টিকটক ও লাইকিতে নানা ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপলোড করে অল্প দিনেই অর্জন করেন জনপ্রিয়তা। গড়ে তোলেন অনুসারীদের বিরাট বাহিনী। এরপরের গল্পটা হয়তো সবারই জানা।

 

অপুকে কা’রাগা’রে পাঠা’নোর সময় তার চুল ছিল বড় ও সবুজ রঙের। ১৫ দিন পর গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) জা’মিনে মু’ক্তি পাওয়ার পর তার সেই চুল আর দেখা যায়নি। কা’রাগা’রে চুল কে’টে ছো’ট করায় অপুর মন খারা’প হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী জাহানারা বেগম।

আজ বুধবার জাহানারা বেগম বলেন, ‘অপু মডেলিং করেন, এটা তার পেশা। কাজের প্রয়োজনে তিনি চুল বড় রেখেছিলেন এবং ভিন্ন রং করিয়েছিলেন। কিন্তু কা’রাগা’রে তার চুল কে’টে ছোট করা হয়েছে। এতে তার মন খারা’প হয়ে গেছে।’ আইন অনুযায়ী হাজ’তি কারো চুল কে’টে দেওয়া যায় কি না, জানতে চাইলে জাহানারা বেগম বলেন, ‘কা’রা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ভালো বলতে পারবে।’

 

এ বিষয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কা’রাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার ইকবাল কবীর চৌধুরী আজ দুপুরে বলেন, ‘কা’রাগারে একজন আসা’মিকে আনার পর তাকে শৃঙ্খ’লার মধ্যেই রাখা হয়। একজন আসা’মি চাইলেই নিজের মতো জীব’নযাপন করতে পারেন না। কা’রাবিধি অনুযায়ী শৃঙ্খ’লার জন্য প্রত্যেক আসা’মির চুল ছো’ট করার নিয়ম রয়েছে। এ জন্য তার চুল ছোট করা হতে পারে।’

 

জানা গেছে, গত ২ আগস্ট রাজধানীর উত্তরার ৬ নম্বর সেক্টরের আলাওল অ্যাভিনিউতে রাস্তা দখল করে অপু এবং তার কয়েকজন সহযোগী আড্ডা দিচ্ছিলেন। সে সময় মেহেদী হাসান নামের এক ব্যক্তি বন্ধুদের নিয়ে গাড়িতে চড়ে ওই সড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় মেহেদী রাস্তা ছাড়তে হর্ন দেন। কেন হর্ন দেওয়া হলো—এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বাকবিত’ণ্ডা হয়। পরে তা হা’তাহা’তি ও মা’রামা’রির পর্যায়ে গড়ায়।

 

পরের দিন গত ৩ আগস্ট দুপুরে মেহেদী হাসানের বাবা এস এম মাহবুব আলম বাদী হয়ে মা’রামা’রি ও ছি’নতা’ইয়ের অ’ভিযোগ এনে উত্তরা পূর্ব থানায় একটি মা’মলা করেন। মা’মলায় অপুসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে অ’জ্ঞা’ত আরো ৩০ জনকে আসা’মি করা হয়।

 

পরে পুলিশ ওই মা’মলায় অপু ও সহযো’গী নাজমুলকে গ্রে’প্তার করে। গত ৪ আগস্ট অপু ও নাজমুলকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আ’দালতে হা’জির করে তাদের তিন দিনের রিমা’ন্ড আবেদন করেন মা’মলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) আজিজ তালুকদার। তবে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা আক্তার রিমা’ন্ডের আবেদন না’কচ করে আসা’মিদের কা’রাগারে পাঠা’নোর নির্দেশ দেন।

 

আ’দালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা (জিআরও) মোহাম্মদ জালাল জানিয়েছিলেন, গত ১৭ আগস্ট ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুন অর রশিদের আদালতে জা’মিন আবেদন করা হলে অপুকে জা’মিন দেওয়া হয়। পরে তার মু’ক্তিনামা কা’রাগারে পাঠানো হয়।

 

এরপর অপু গতকাল ঢাকা কেন্দ্রীয় কা’রাগার থেকে মু’ক্তি পান। অপুর গ্রামের বাড়ি নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী এলাকায়। তিনি ঢাকার দক্ষিণখানের একটি বাসায় থাকতেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *