Categories
জাতীয়

সেদিন কি ঘটেছিল, অবশেষে সব খুলে বললেন সিফাত

নিজ ইচ্ছায় অবসরে যাওয়া সাবেক মেজর সিনহা মোহাম্ম’দ রাশেদ খানের মৃ’ত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মা’মলায় আজ বুধবার (১২ আগস্ট) চার পু’লিশ সদস্যসহ সাত আ’সামির ৭ দিন করে রি’মান্ড নেওয়ার আদেশ দিয়েছে আ’দালত।

 

অন্যদিকে এ মা’মলার অন্যতম আসামী ওসি প্রদীপ কুমা’র দাশকে এখনো জিজ্ঞসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। তবে সেদিন সিনহার সাথে কি ঘটেছিল, অবশেষে সেদিনের সব তথ্য তুলে ধরেছেন তার সফরসঙ্গী সিফাত।

 

জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা যখন গু’লি’বি’দ্ধ হন, সে সময় তার পাশেই ছিলেন তার তথ্যচিত্রের কাজের সহকর্মী সাহেদুল ইস’লাম সিফাত। পরে পু’লিশ হেফাজতে নিয়ে গিয়ে সিফাতকে হা’তকড়া পরিয়েই রাখা হয় কয়েক ঘন্টা। করা হয় জিজ্ঞাসাবাদ। সেই জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিওতেই বোঝা যায় কী’ ঘটেছিলো সেদিন।

 

তথ্যচিত্রের জন্য ছবি ধারণ করতে বিকালে পাহাড়ে ওঠেন অবসরপ্রাপ্ত সে’না কর্মক’র্তা সিনহা, সঙ্গী ছিলেন সিফাত। আ’ট’ক হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদেও বলেছিলেন, পাহাড়ে সিনহার সঙ্গে কোন আ’গ্নে’য়া’স্ত্র ছিলো না।

 

সিনহার সহকর্মী সাহেদুল ইস’লাম সিফাত বলেন, ’না কোন অ’স্ত্র ছিলো না। আমাদের হাতে ট্রাইপড ছিলো ওইটাকে উনারা ভুল বুঝতে পারেন। কিন্তু পাহাড় থেকে নামা’র সময় কোন অ’স্ত্র ছিলো না। আমি হাত তোলা দেখে পিছনে চলে এসেছি। আমাদের আগেই গাড়ি থেকে নামতে বলেছিলো।’

 

শামলাপুর চেকপোস্টে পরিচয় জানার পর গাড়ির সামনে ড্রাম ফেলে আ’ট’কে দেয়া হয় তাদের। সিফাত আরও বলেন, ’আম’রা প্রথম যখন পৌঁছেছি আমাদের বলা হলো আপনাদের সম্বন্ধে জানান। আম’রা গাড়ির গ্লাস ওঠানোর সময় উনি আসলেন। এসে উনি বললেন, দাঁড়ান আবার বলেন। তারপর উনি দৌড়ে গিয়ে ড্রামটা সামনে দিয়ে দিলেন। উনাদের গায়ে পু’লিশের ইউনিফর্ম ছিলো না। তারা ৪-৫ জন ছিলো।’

 

তারপরই গাড়ি থেকে বের হতে বলে পু’লিশ। সাহেদুল ইস’লাম সিফাত জানান, ’পু’লিশের পক্ষ থেকে চি’ৎকার ছিলো যে, বের হ গাড়ি থেকে। আমি যখন গাড়ি থেকে নেমে পিছনে হাঁটা শুরু করি উনিও গাড়ি থেকে নামেন। তারপর বলেন কাম ডাউন, কাম ডাউন। এরপর আমি গু’লি’র শব্দ শুনি। তারপর আমি দেখলাম সিনহা স্যার মাটিতে পড়া। তখন আমি ভেবেছিলাম শরীরে লাগেনি, হয়তো ফাঁকা আওয়াজ করেছেন, উনি হয়তো মাটিতে শু’য়ে পড়েছেন। তারপর দেখলাম উনার শরীর থেকে র’ক্ত বের হচ্ছে।’

 

প্রশ্নক’র্তাদের জানতে চেয়েছিলেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার অবস্থান এবং অ’স্ত্র কোথায় ছিলো? এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী সিফাত জানান, ’সিনহা স্যার যখন গাড়ি থেকে নামেন আমি দেখেছি উনি পি’স্ত’লটা গাড়িতে রেখে নেমেছেন। আমি দেখেছি উনি দু’হাত তুুলে গাড়ি থেকে নেমেছেন। আমিতো পিছনে ছিলাম তাই আমি শুধুু দেখেছি উনি নিচু হয়ে ছিলেন। তাই উনার পদক্ষেপটা আমি দেখতে পাইনি।’

 

এ সময়ে সিফাত আরও জানান, যখন সিংহা স্যারকে গু’লি করা হয়েছিলে তখন আশেপাশে তেমন কোনো মানুষের আনাগনা ছিল না। থাকলেও অনেক দূরে ছিল তবে এ ঘটনায় প্রথম’দিকে কোনো ভিড় দেখা যায়নি। এছাড়া পেছনে ১-২ গাড়ি ছিল। পরে ক্রাউড হয়েছিলো।’ এই সিফাত এখন সাবেক মেজর সিনহা মোহাম্ম’দ রাশেদ খানের অন্যতম একজন সাক্ষী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *