Categories
জাতীয়

সব বোগাস! আমার কিছুই হবে না: ওসি প্রদীপ

কারাগারেও বেশ ভালই আছেন স্বেচ্ছায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হ’ত্যায় গ্রে’ফতার টেকনাফ থানার সদ্য সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাস। জে’ল ‘হা’জতে বেশ হাসিখুশি ভাবেই কাটছে সময়। অনেকটাই ফুরফুরে মেজা’জে দিন পার করেছেন তিনি।

জে’লকর্মীদের কাছে নিত্য নতুন আবদারও করছেন তিনি। জে’লকর্মীদের কাছে প্রদীপ জানিয়েছেন, এগুলো সব বোগাস! সব তামাশা। তিনি কোনো অন্যায় করেননি। তার কিছুই হবে না। তিনি জে’লকর্মীদের সঙ্গে হাসিখুশি কথা বলেছেন।

তাদের কাছে শুধু একা থাকার সুবিধা চেয়েছেন টেকনাফের এই কথিত রাজা। বলেছেন, আমার রুমে আমি একা থাকতে চাই। আমার সঙ্গে আর কাউকে দেবেন না।

এবিষয়ে জে’ল সুপার মো. মোকাম্মেল হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে জানান, জে’লে একা থাকার সুযোগ আছে। তাছাড়া তারা রিমা’ন্ডের আসামি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সবাইকে আলাদা করে রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তাদের রিমা’ন্ডের জন্য বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়নি।

প্রদীপের হাতে নি’র্যাতি’ত ও জেলে অন্তরীণ সাংবাদিক ফরিদুল মোস্তফা খান ও ওসি প্রদীপের উত্ত’প্ত বাক্য বিনিময় এমন একটি সংবাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি ওই সংবাদ সঠিক নয় বলে জানান। বলেন, দু’জন দুই জায়গায় থাকেন। একজনের সঙ্গে আরেকজনের দেখা সাক্ষা’তের কোনো সুযোগ নেই।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জে’লকর্মী জানান, ওসি প্রদীপ কুমার দাশের হাসিমাখা চেহারা দেখে বুঝার উপায় নেই তিনি মেজর অব. সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ হ’ত্যা মাম’লায় জে’লে আছেন। শুনানির দিন আদালত ভবনেও হাসিখুশি ছিলেন ওসি প্রদীপ। একজন আইনজীবী জানিয়েছেন, আদালত ভবনে ওসি প্রদীপ যতক্ষণ ছিলেন, হাসি-ঠাট্টা করে সময় পার করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ৩১ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গু’লিতে নি’হত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

৫ আগস্ট নিহ’ত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস বাদী হয়ে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়িাল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইন্সপেক্টর লিয়াকত, ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ নয়জনের বিরু’দ্ধে হ’ত্যা মাম’লা দায়ের করেন।

৬ আগস্ট বরখাস্ত ওসি প্রদীপসহ ৭ আসামি কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল আদালতে আ’ত্মসম’র্পন করেন। মা’মলার শু’নানীতে র‌্যাবের পক্ষে প্রত্যেক আসা’মির ১০ দিন করে রিমা’ন্ডের আবেদন করলে আদালত ইন্সপেক্টর লিয়াকত, ওসি প্রদীপ এবং এসআই নন্দ দুলাল রক্ষিতকে সাত দিন করে রিমা’ন্ড মঞ্জুর করেন। চার আ’সামিকে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেয় আ’দালত। অপর দুই আসা’মির বিরু’দ্ধে গ্রে’ফতারি পরো’য়ানা জা’রি করে আদালত।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন বিপিএম (বার) জানান, টেকনাফ থানার ‘মা’মলা নম্বর : ৯/২০২০, যার সিআর মামলা নম্বর : ৯৪/২০২০ ইংরেজি (টেকনাফ) মামলায় ৭ আসা’মির জা’মিন আবেদন না’কচ হয়ে জে’লে যাওয়ার পর, প্রদীপ কুমার দাশ ও লিয়াকত আলী ইন্সপেক্টর হওয়ায় তাদেরকে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এবং বাকি ৫ জন যথাক্রমে এসআই নন্দলাল রক্ষিত, কনস্টেবল সাফানুর করিম, কনস্টেবল কামাল হোসেন, কনস্টেবল আবদুল্লাহ আল মামুন ও এএসআই লিটন মিয়াকে তাৎক্ষণিক চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *