Categories
শিক্ষা

এবার শিক্ষার্থীদের ‘অটো পাস’ করিয়ে দেয়া হবে!

দেশে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের কারণে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চলতি শিক্ষাবর্ষে নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে শিক্ষার্থীদের ‘অটো পাস’ করানোর চিন্তাভাবনা চলছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

 

করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৮৮টি কর্মদিবস নষ্ট হচ্ছে। ১৬ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা মাত্র ৪১ দিন কর্মদিবস পেয়েছিল। কিন্তু তেমন একটা লেখাপড়া হয়নি।

সূত্র জানায়, সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে স্কুল খোলা সম্ভব হলে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নেয়া হবে। আর সেটা সম্ভব না হলে ‘অটো পাস’ দেয়া হবে। উভয় ক্ষেত্রেই পাঠ্যবই বা সিলেবাসের যে অংশটুকু পড়ানো সম্ভব হবে না তার অত্যাবশ্যকীয় পাঠ পরের শ্রেণিতে যুক্ত করা হবে। শিক্ষার এই ‘রিকভারি প্ল্যান’ চূড়ান্ত করতে বুধবার জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে (এনসিটিবি) বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে বৈঠক ডাকা হয়েছে।

 

জানা গেছে, প্রাথমিকের ‘রিকভারি প্ল্যান’ তৈরি করেছে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)। আর মাধ্যমিকের ‘রিকভারি প্ল্যান’ তৈরি করেছে বাংলাদেশ পরীক্ষা উন্নয়ন ইউনিট (বিইডিইউ)। এরই মধ্যে উভয় সংস্থাই তাদের পরিকল্পনা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে। পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে এনসিটিবিতে বৈঠক ডাকা হয়েছে। প্রয়োজন হলে এনসিটিবি প্রতিটি শ্রেণির ‘কারিকুলাম ম্যাপিং’ করে ‘রিকভারি প্ল্যান’ চূড়ান্ত করবে।

 

বিইডিইউয়ের ঊর্ধ্বতন বিশেষজ্ঞ (পরীক্ষা ও মূল্যায়ন) রবিউল কবীর চৌধুরী বলেন, ‘সেপ্টেম্বরে স্কুল খুললে কীভাবে পরবর্তী কার্যক্রম চলবে, অক্টোবরে বা নভেম্বরে খুললে কীভাবে চলবে সে ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত পরিকল্পনা জমা দিয়েছি। যদি নভেম্বরের মধ্যে স্কুল খোলা সম্ভব হয় তাহলে সংক্ষিপ্ত পরিসরে পরীক্ষা নেয়া হবে। সেটা সম্ভব না হলে আমরা অটো প্রমোশন দিতে বলেছি।’

তিনি বলেন, নভেম্বর পর্যন্ত স্কুল খোলা সম্ভব না হলে ডিসেম্বরে বৃত্তির জন্য মেধাবী শিক্ষার্থীদের সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। প্রত্যেক স্কুল থেকে পাঁচ বা ১০ শতাংশ শিক্ষার্থী এই পরীক্ষায় বসবে। এ ক্ষেত্রে কত শতাংশ বৃত্তি পরীক্ষা দেবে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঠিক করবে।

 

বিইডিইউ আরও বলছে, সেপ্টেম্বরে স্কুল খুললে সিলেবাস কমিয়ে ১০০ নম্বরের পরীক্ষা নেয়া হতে পারে। তবে অক্টোবর বা নভেম্বরে খুললে ৫০ নম্বরের পরীক্ষা আয়োজন করতে হবে। আর সেটা সম্ভব না হলে কোনো পরীক্ষা ছাড়াই ‘অটো পাস’ এর মাধ্যমে পরবর্তী শ্রেণিতে চলে যাবে শিক্ষার্থীরা।

 

প্রাথমিকের ‘রিকভারি প্ল্যান’ বিষয়ে নেপ মহাপরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর দুই মাসে শ্রেণি কার্যক্রম শুরুর পরিকল্পনা সামনে রেখে কাজ চলছে। বয়স অনুযায়ী শিশুদের শিখনফল সামনে রেখে তৈরি করা এই পরিকল্পনায় অবশ্যই সিলেবাস সংক্ষিপ্ত হবে। এ ক্ষেত্রে পরবর্তী শ্রেণির জন্য প্রয়োজনীয় পাঠ থাকবে আর কম গুরুত্বপূর্ণ পাঠ বাদ যাবে।

 

নেপ বলছে, ১ সেপ্টেম্বরে ক্লাস শুরু করতে পারলে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির ক্লাস কার্যক্রম চলবে। বার্ষিক পরীক্ষা হবে ডিসেম্বরে। আর পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস চলবে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত। আর ১ অক্টোবর থেকে ক্লাস শুরু করা গেলে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস হবে। সে ক্ষেত্রে বার্ষিক ও পিইসি পরীক্ষা কবে কোনটি নেয়া হবে সেটা নির্ধারণ করবে মন্ত্রণালয়।

 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন বলেন, রিকভারি প্ল্যান নিয়ে আমরা কাজ করছি। যেহেতু কবে স্কুল খুলবে সেটি বলা যাচ্ছে না, তাই আমাদের পক্ষেও অনেক কিছু সুনির্দিষ্ট করা সম্ভব হচ্ছে না।

 

সূত্র জানায়, গত সপ্তাহে দুই মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষার ‘রিকভারি প্ল্যান’ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে বৈঠক হয়। সেখান থেকে ডিসেম্বরেই চলতি শিক্ষাবর্ষ শেষ করার কথা বলা হয়। প্রয়োজনে পরীক্ষা ছাড়াই পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণের ব্যাপারে বলা হয়। সুত্রঃ মানবকণ্ঠ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *