Categories
বিনোদন

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের স্কুল জীবনের গল্প

জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের টাইমলাইন থেকে নেওয়া জীবনের কিছু গল্প বিডি রাইট পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

 

কুমিল্লা গুলবাগিচা স্কুলে পড়াকালীন সময় প্রয়াত শ্রীমতি কল্যানী সেন গুপ্তা আমাকে সবধরনের গান গাওয়াতেন। স্কুল কম্পিটিশন গুলোতে আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধেই পার্টিসিপেট করতে হতো। আমার মনযোগ ছিল খেলায়, স্কুলে অন্য ছেলে শিল্পী না থাকায় আমার উপর চলতো স্টীম রোলার। এমনকি মেয়েরা নাচতো আর আমি ব্যাকগ্রাউন্ডে গাইতাম -আইলো দেয়া নিশালে সকালে কি বিকালে ধরনের দলীয় সঙ্গীত। আপার কল্যানে মোটামুটি টাইপের অলরাউন্ডার সিঙ্গার হলেও আমার কপালে জুটতো স্বান্তনা পুরষ্কার। গুলবাগিচা স্কুলের এক ব্যাচ জুনিয়র ফারহানা আজিম শিউলি ছিল আমাদের সুপারষ্টার। মডার্ন স্কুলের শারমীন সাথী ইসলাম এখন দেশবরেন্য নজরুল সঙ্গীত শিল্পী। মেয়েদের কাছে প্রত্যেক প্রতিযোগীতায় হেরে আমি গানের জগতে খুব দুঃখজনক অবস্থানে ছিলাম।

আমার পরিবারে রবীন্দ্র চর্চা আনুপাতিক হারে ব্যাপক। বিশেষ করে আমার বড় আপার বিয়ের পর দেখেছি উনার শ্বশুরবাড়ীতে প্রায় সবাই রবীন্দ্রপ্রেমী। মিতা আপার ( শ্রদ্ধেয় মিতা হক) মত গ্রেট রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী আমার বোনের ননদ। ছোটসময়েই আপার গান দেখার জন্য বিটিভি ছেড়ে বসে থাকতাম। সঙ্গে খালেদ খান যুবরাজ দুলাভাইয়ের হিট নাটকতো ছিলই। দার্শনিক সাহিত্যিক আহমদ ছফা ভাইও একই পরিবারের সদস্য হওয়াতে একটা অন্য আবহে বড় হয়েছি। মাথায় বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের পোকা ঢুকেছে কল্যানী আপার কারনে। তাছাড়া দুখু মিয়ার জীবনাচারন ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছে আমার জীবনে। এই দুই ঘরানায় আমি খুব আন ইজি থাকি সবসময়। কারন রবীন্দ্র নজরুল চর্চায় বেয়াদবী না থাকাই উত্তম।

আলো আমার আলো ওগো- গানটি গেয়ে খুব অস্বস্তিতে ছিলাম। বিশেষ করে আমার পরিবারের সদস্যদের মন্তব্য জানার জন্য একটা চাপা উত্তেজনা করেছে। গতকাল কবিগুরু অধ্যুষিত আপার শ্বশুরবাড়ীর সদস্যদের কাছ থেকে পাশমার্ক পেয়ে একটু স্বস্তির নি:শ্বাস ফেলেছি। অন্যান্য শুভাকাঙ্খীদের মতামতকেও রেসপেক্ট। আরো গাইবার ইচ্ছা জেগেছে সামনে, অবশ্যই যথাযোগ্য সম্মানের সাথেই গাইবো। নিজের কিছু পুরনো গান নতুন আঙ্গিকে গাইছি। বিশ বছর আগে গাওয়া গানগুলো গাইবো। তখনকার মত যৌবনের উত্তেজনা পরিহার স্বাপেক্ষে শান্তভাবে প্রেজেন্ট করাই মূল লক্ষ্য। যার পুরনোটা ভাল লাগবে তিনি পুরনোটা শুনবেন, যার নতুন আঙ্গিকটা ভাল লাগবে তিনি নতুনটা শুনবেন। এ নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত নিষ্প্রোয়জন, যদিও আমাদের দেশে এই একধরনের প্রজাতির কোন অভাব নেই। সামনে নানা ধরনের গানের সম্ভার নিয়ে হাজির হতে থাকবো। যারা জ্বলবে তাদের জন্য উপহার হিসেবে রইলো খাঁটি গাওয়া ঘি, আর যারা আনন্দ পাবেন তাদের ভ্রমনের জন্য আমার বাহারী ফুলের বাগানে স্বাগতম, আমি নিজেই এখন একটা ভ্যারাইটি ষ্টোর…

ভালবাসা অবিরাম…

ইউনিক ডিজাইনটি করেছে বন্ধু আলী ইমাম সুমন

সূত্র আসিফ আকবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *