Categories
জাতীয়

আমি অপরাধী, পাওনাদারদের সব টাকা দিয়ে দেব, রিমান্ড কুলাতে পারব না: শাহেদ

‘স্যার, আমি অন্যায় করেছি। আমি অ’পরাধী। এ পর্যন্ত আমা’র বিরু’দ্ধে যেসব অ’ভিযোগ আনা হয়েছে, তা আমি স্বীকার করছি। আর যারা আমা’র বিরু’দ্ধে মা’মলা করেছে, সেই সব পাওনাদারের সব টাকা ব্যবসা চালু হলে আস্তে আস্তে পরিশোধ করব। গত ১২-১৩ দিন ধরে আমি খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে রয়েছি। রি’মান্ডে গেলে আমি আর কুলাতে পারব না। অনেক প্রেশারের মধ্যে রয়েছি। আমি সবার টাকা ফিরত দিয়ে দেব। রি’মান্ড শুনানি ঈদের পর হলে ভালো হয়। আমি এখন অসুস্থ।’

 

রি’মান্ড শুনানির সময় বিচারক আ’সামি সাহেদের কাছে তার কিছু বলার আছে কি না, জানতে চাইলে আ’সামির কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজ কৃতকর্মের কথা স্বীকার করেন প্রতারণার জাদুকর রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহা’ম্ম’দ সাহেদ। পরে অর্থ আ’ত্মসাৎ ও প্রতারণার পৃথক চার মা’মলায় সাত দিন করে মোট ২৮ দিন রি’মান্ডে নেওয়ার অনুমতি দেন ঢাকা মহানগর হাকিম রাজেশ চৌধুরী।

 

এর আগে গতকাল রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম ও উত্তরা পূর্ব থানার চার মা’মলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৪০ দিন রি’মান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। এ সময় সাহেদের আইনজীবীরা তার রি’মান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক জামিনের আবেদন নাকচ করে রি’মান্ডের আদেশ দেন। এর আগে করো’না ভাইরাস পরীক্ষায় জালিয়াতির অ’ভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানার মা’মলায় ১০ দিনের রি’মান্ড শেষে তাকে আ’দালতে হাজির করে র্যাব’। এরপর পুলিশের পক্ষ থেকে চারটি মা’মলায় তাকে ১০ দিন করে মোট ৪০ দিনের রি’মান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়। এর মধ্যে তিনটি মা’মলা রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় করা। এর মধ্যে দুটিতে ইট, বালু, সিমেন্ট সরবরাহের টাকা আ’ত্মসাত্, অন্যটিতে হোটেলের অংশীদারিত্ব নিয়ে প্রতারণার অ’ভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া উত্তরা পূর্ব থানার মা’মলাটি জাল টাকা রাখার অ’ভিযোগে।

 

রি’মান্ড শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আ’দালতের পিপি আবদুল্লাহ আবু ও অতিরিক্ত পিপি সাজ্জাদুল হক শিহাব আ’দালতে বলেন, পরীক্ষা না করেই ভুয়া করো’না সার্টিফিকেট দিয়েছেন, তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। তারা একটা চক্র। এ চক্রের আরো লোকজনের নাম-ঠিকানা জানা এবং আরো তথ্যের জন্য জিজ্ঞাসাবাদ করতে ৪০ দিনের রি’মান্ডে দেওয়া হোক। এছাড়া অতিরিক্ত পিপি কে এম সাজ্জাদুল হক শিহাব বলেন, তারা বড় রকমের প্রতারক। এই আ’সামি প্রতারণার গু’রু, জাতীয় প্রতারক। ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য রি’মান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

 

রি’মান্ড আবেদনে আরো বলা হয়, রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ নিজেকে সুধী ও ক্লিন ইমেজের ব্যক্তি বলে দাবি করলেও প্রকৃতপক্ষে সে একজন ধুরন্ধর, অর্থলিপ্সু ও পাষাণ্ড প্রকৃতির লোক। অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তার কাছে মানুষের জীবন-মৃ’ত্যুর কোনো মূল্যই নেই। এদিকে রিজেন্ট হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদ পারভেজকেও রি’মান্ড শেষে আ’দালতে হাজির করা হলে একই বিচারক তিন মা’মলায় সাত দিন করে ২১ দিনের রি’মান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন।

উল্লেখ্য, করো’নার ভুয়া রিপোর্ট এবং করো’না রোগীদের কাছ থেকে মোটা অ’ঙ্কের টাকা নেওয়ার অ’ভিযোগে র্যাব’ শাহেদের মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতালে অ’ভিযান চালায়। এ ঘটনায় সাহেদ পলাতক হলে ১৫ জুলাই সাতক্ষীরা সীমা’ন্ত থেকে তাকে গ্রে’ফতার করে র‌্যাব’। সাহেদের বিরু’দ্ধে বিভিন্ন থানায় ৫০টির বেশি মা’মলা রয়েছে বলে জানা গেছে। সূত্র: ইত্তেফাক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *