Categories
বিনোদন

জায়েদ খানের একটা সিনেমার নাম বলতে পারবে কেউ: পপি

গত রোববার ১৯ জুলাই বিএফডিসির গেটের সামনে মিশা-জায়েদের পদত্যাগ চেয়ে রাস্তায় নেমেছেন শিল্পী সমিতির ভোটাধিকার হা’রানো ১৮৪ জন শিল্পী। সেদিন বেলা সাড়ে ১১টায় এসব শিল্পী এফডিসির গেটে মানববন্ধন করেন।সেই সঙ্গে ‘যে নেতা শিল্পীদের সম্মান করে না, তাকে আম’রা চাই না’ স্লোগান দিয়ে ভোটাধিকার ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি মিশা-জায়েদের পদত্যাগ দাবি করেন।

 

কে একে এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে মুখ খুলছেন অনেক তারকা। সে ধারাবাহিকতায় কথা বলেছেন একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অ’ভিনেত্রী ও শিল্পী সমিতির সাবেক নেতা চিত্রনায়িকা পপি।কথার শুরুতেই পপি জানালেন শিল্পী সমিতির নেতৃত্বে থাকার সময়কার চাপা কিছু ক’ষ্টের কথা। মন অ’তীতের স্মৃ’তিচারণও করলেন।তিনি বলেন, এফডিসি নির্মাণ করেছেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তার স্বপ্নের জায়গাতেই আজকের এই ফিল্ম ইন্ড্রাস্টি দাঁড়িয়ে। অথচ সেখানে আজ অযোগ্য লোকের নেতৃত্বে জি’ম্মি চলচ্চিত্রের শিল্পী ও তাদের সমিতি।

 

দেখু’ন আম’রা সবাই স্বাধীন দেশের নাগরিক। কেউই কিন্তু পরাধীন নয় এবং স্বৈরাচারী বিষয়টির সাথে কোনোভাবেই রিলেটেড না। তাহলে পরাধীনতা কিংবা স্বৈরাচারিতা সিনেমায় চলছে কেন? এই দুটি শব্দ যেন আর এখানে উচ্চারিত না হয় সেটাই আমা’র প্রথম চাওয়া।গেল কয়েকদিন ধরেই মনটা ভিষণ খা’রাপ। ইন্ডাস্ট্রি এমনিতেই ভালো না। তার উপর শুরু হয়েছে স্বৈরাচারদের মানসিক অ’ত্যাচার।চলছে বি’ক্ষোভ। একজন শিল্পী থাকবে নরম মনের। এখানে দেখা যাচ্ছে পাষণ্ডদের রাজত্ব। যারা নিজেদের স্বার্থকেই বড় করে তুলেছে, সিনেমা হয়ে গেছে গৌন।

 

আজ যারা রাস্তায় নেমেছে এরা প্রত্যেকেই শিল্পী ও ভোটার ছিল শিল্পী সমিতির। এদের ভোটেই কিন্তু আজকের শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সেক্রেটারি নির্বাচিত হয়েছেন। তারা তা ভুলে গেছেন।যে চেয়ারটায় জায়েদ খান বসেন সেটা তিনি পেয়েছেন আমাদের সবার ভোটেই। অথচ চেয়ারে বসেই ১৮৪ জন শিল্পীর ভোটাধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছে। এটি বেই’মানি বলা যায়। যেহেতু এর সঙ্গে একজন মানুষই জ’ড়িত আমি তার কথাই বলবো।আম’রা যারা তখন কমিটিতে ছিলাম অনেকেই এটার প্রতিবাদ করেছিলাম। কারো কথাই শোনা হয়নি।

 

একের পর এক অনিয়মকে তারা প্রতিষ্ঠিত করেছে। এসব কারণেই আমাদের সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে। তারা চেয়েছে আম’রা যেন দূরে সরে আসি। মিটিংয়ে না যাই। কমিটিতে এক্টিভ না থাকি।শুধু যখন টাকার দরকার পড়েছে আমাদের ডাক পড়তো। নইলে তারা চাইতো না আম’রা এফডিসিতে যাই। সবাইকে বুঝিয়েছিলাম বিষয়টি। শিল্পীরা বুঝেননি। অনেক সিনিয়ররাও আবেগী ও কৌশলী ফাঁদে পা দিয়ে সম’র্থন দিয়ে আবার ক্ষমতায় এনেছে।তারই দায় আজ শোধ করতে হচ্ছে। বা বলেন ভুলের খেসারত। শিল্পীদের এই করো’নার আতঙ্কের মধ্যেও রাস্তায় নামতে হয়েছে। এই প্রথম শিল্পীরা তাদের কোনো নেতার পদত্যাগ চাইলো।

 

এটা দুঃখজনক। তারা যাকে তাকে অ’পমান করে। সিনিয়র-জুনিয়র মানে না। নিজেদের মতের বি’রুদ্ধে গেলে শত্রু ভেবে নেয়, ক্ষতি করার চেষ্টা করে। আমি চাই দ্রুত এইসব বিষয়ের মীমাংসা হোক।যে সিনেমাকে ধারণ করে না তার কোনো অধিকার নেই সিনেমা’র মানুষদের নেতৃত্ব দেয়ার। মুখোশধারীদের মুখোশ যখন খুলছে সেটা তাদের উপযু’ক্ত শা’স্তি দেয়া হোক।’পপি আরও বলেন, ‘অনেকে বিশ বছর আগে সিনেমা কাজ করেছেন। এখন নিয়মিত নন বলে অনেকের সদস্যপদ কেড়ে নেয়া হচ্ছে। যদি এই নিয়মে কাউকে বাদ দেয়া হয় তাহলে তো শত শত শিল্পীর সদস্যপদ থাকবে না।

 

এটিএম শামসুজ্জামান আংকেল, ফারুক ভাই, সোহেল রানা ভাই, কাঞ্চন ভাইদের মতো কিংবদন্তিরাও বাদ পড়বেন। কারণা এনারা অনেকদিন সিনেমায় কাজ করেন না। শাবানা-কবরী-ববিতা আপারাও থাকতে পারবেন না।আনোয়ারা ম্যাডাম, সুচন্দা ম্যাডাম’রা বাদ যাবেন। কারণ কেউই আর আগের মতো কাজ করেন না। এটা একটা ফা’লতু অজুহাত। ওরা খুঁজে খুঁজে বের করেছে কারা তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে।তাদেরকেই ছাটাই করেছেন। এটা অন্যায়। শিল্পী সে চিরদিন শিল্পী। এজন্যই একজন শিল্পী মা’রা গেলে রাষ্ট্র তাকে সম্মান জানায়।

 

কিন্তু দেখু’ন নাচের শিল্পী বা ফাইটের শিল্পী যারা শিল্পী সমিতির সদস্য তাদের কিন্তু ভোটাধিকার বাতিল করা হয়নি। কারণ তারা জায়েদের পক্ষের লোক। এটা শিল্পীর নীতি নয়, নোংরা রাজনীতি।যারা আজ রাস্তায় নেমেছেন তারা অনেকেই শাবানা আপা, কবরী আপা, ববিতা আপাদের সাথে কাজ করেছেন।আমাদের প্রজন্মের সঙ্গেও কাজ করেছেন। এখনকার প্রজন্মের সঙ্গেও কাজ করছেন। বাদ পড়াদের মধ্যে এমন শিল্পীও আছে যার সিনেমা’র সংখ্যা প্রায় এক হাজার। এরা খুব বেশি অর্থ, সম্মান বা পরিচিতি পাননি।

 

শিল্পী সমিতির সদস্য হিসেবে গর্ববোধ করেন। সেটাও কেড়ে নেয়া হলো। আজ তাদের মনের কি অবস্থা?ফারুক ভাই এ নিয়ে কিছু তো বললেন না! তিনি মুরুব্বি, পূজনীয় আমাদের সকলের কাছে। তাকে অ’ভিভাবক হিসেবে সবাই মানি। তার কাছে নিরপেক্ষতা আশা করি। আমা’র মনে হয় উনার জাজমেন্ট হওয়া চাই দুই চোখের দৃষ্টিতে সমান।’মিশা-জায়েদকে অবাঞ্চিত করা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘সেই রাজ্জাক আংকেলদের সময় থেকে শিল্পী সমিতির যাত্রা। এরপর বহু বহু শিল্পী এসেছেন। সবাই মিলেমিশে থেকেছেন। হ্যাঁ,যখন নির্বাচনের রাজনীতি আপনি করবেন আপনার কাছের মানুষটি প্রতিদ্বন্দ্বী হলে তার সঙ্গে একটা দূরত্ব হবেই। কিন্তু শিল্পী সমিতিতে এই দূরত্ব ছিলো কেবলই নির্বাচন উপলক্ষে। নির্বাচন শেষ, সব শেষ।

 

সবাই মিলেমিশে চলেছে একসঙ্গে। এখানে ব্যক্তি রেষারেষিটা শুরু হয়েছে কয়েক বছর আগে। আর সেটি নোংরামির অবস্থায় পৌঁছেছে জায়েদ খান নির্বাচনে আসার পর থেকে। জসিম ভাই, ইলিয়াস ভাই, ওম’র সানি ভাই, বাপ্পারাজ ভাই,রিয়াজ, ফেরদৌস, আমিন খান, অমিত হাসান, শাকিব খান, ববিতা আপু, শাবানা আপু, মৌসুমী ও শাবনূর আপু, আমি, পূর্ণিমা- সবাই কিন্তু সোনালী সময় পার করে এসেছি। অনেক শিল্পী ছিলো। প্রতিযোগিতা অনেক বেশি ছিলো। তখন কিন্তু শিল্পীদের মধ্যে এতো বিভাজন ছিলো না।কিন্তু এই একজনের জন্য চলচ্চিত্রে আজ এত দলাদলি, নোংরা রাজনীতি চলছে। এত ঝামেলা হচ্ছে।

 

শাকিব খান একজন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অ’ভিনেতা। তাকে কিন্তু অবাঞ্চিত ও বয়কট করা হয়েছিলো। অনেক কারণ ছিলো। তাকে বয়কট করে শা’স্তি দেয়া হয়েছিলো। ভুল যেই করুক শা’স্তি সে পাবেই। হয়তো শাকিবের কিছু ভুল ছিলো।কিন্তু সেই ভুলগুলোকে জায়েদ আরও ঘোলা করেছে পলিটিক্স করে। বি গ্রেডের একজন হিরো যখন এ গ্রেডের একজন নায়কের সাথে পলিটিক্স করেছে এবং নিষিদ্ধ করেছে তখন সবাই কোথায় ছিলেন? তখন কিন্তু ফারুক ভাই বলেননি এই শিল্পীকে কেন বয়কট করা হয়েছে।

 

একটা মানুষ সিনিয়রদের টুপি পরিয়ে এই সদস্যপদগুলো খালি করে দিচ্ছেন। রুবেল ভাই, ডিপজল ভাই এখনো তো কিছুই বুঝতে পারছেন না কি হতে যাচ্ছে। খুব শিগগিরই টের পাবে। জায়েদ মূলত এসেছে নিজের পাবলিসিটি করতে,সিনেমা করতে আসেনি। শাকিবের বহু সুপারহিট সিনেমা আছে। সে ভুল করলেও তাকে বিবেচনায় রাখতে হবে।

 

তার ত্রুটিগুলো আড়ালে রেখে তাকে বোঝাতে হবে। আম’রা অনেকেই তখন সেই চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু শাকিব একটা ঘোরের মধ্যে ছিলো। তাই পুরো ইন্ডাস্ট্রি তাকে বয়কট করেছিলো।শিল্পী হিসেবে আমাদের খা’রাপ লাগলেও কিছু করার ছিলো না। কিন্তু জায়েদের একটা সুপারহিট বা জনপ্রিয় সিনেমা’র নাম বলতে পারবে কেউ? তার ভুলকে কেন সবাই আড়াল করার চেষ্টা করছে? তাও এত এত ভুল। অ’ভিযোগের পাহাড় তার বি’রুদ্ধে। তার সিনেমা কয়টা, সে কি শিল্পী কিংবা তার সদস্যপদকে কে চ্যালেঞ্জ করবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *