Categories
জাতীয়

সৌদি আরবে সবচেয়ে বড় প্রতারণা ব্যবসার নাম হলো সাপ্লাই বা ম্যানপাওয়ার ব্যবসা!

কোম্পানিগুলুতে শ্রমিকদের কাজ করিয়ে,লাখ লাখ রিয়াল হাতিয়ে নিয়ে তারা দেশে বাড়ী গাড়ি কারখানা ফেক্টরি গার্মেন্টস খুলে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। আর এদিকে দুখে দুখে মরছে প্রবাসি শ্রমিক।বিভিন্ন দেশের মানুষ কে কোম্পানিতে কাজ করিয়ে, মানুষের শ্রমের টাকা না দিয়ে কোম্পানি থেকে টাকা তুলে নিয়ে পালিয়ে যায়/সেন্ডিকেট দালালেরা।

 

এতে ব্যাবহার করে একশ্রেনীর সৌদি আরবের অধিবাসি ও তাদের কিছু প্রোপাগাণ্ডা বাংলাদেশি পাকিস্তান ইন্ডিয়ান কিছু দালাল চক্র কেও।এতে নিঃস্ব অসহায় হচ্ছে শ্রমিক,টাকা না পেয়ে পাগলের মতো দিশেহারা হয়ে পড়ছে প্রবাসিরা।ঠিক মতো কপালা না দিতে পারায় কপিল হুরুপ বা খুরুজে নেহায়ী মারছে,অসহায় হয়ে পুলিশ কে ধরা দিয়ে ও পুলিশ ধরে দেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে প্রবাসীদের।

প্রতিবাদ করার কেউ নেই, দেখার কেউ নেই,অজোরে কেঁদে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ প্রবাসি শ্রমিক।বুক পাটা কান্না কে শুনে।মেনপাওয়ার ও সাপ্লাইদের থাকে শক্ত কালো থাবা। তাদেকে শায়েস্তা করার কোন সুজুগ থাকেনা তারা নিজেরা বাঁচার জন্য লালন পালন করে কিছু দুষ্ট প্রকৃতির অমানুষ কিছু সৌদি, কিছু গুন্ডা পান্ডা।হাতে গোনা অল্প কিছু মেনপাওয়ার ও সাপ্লাই মন্দের ভালো আছে তারাও ওয়াদামতো চেলারী দেয় না।

 

তার পর ও কাটিং পাটিং করে চেলারী কিছুটা হলেও উঠানু যায়।এদের কাজে কাজ করিয়ে কিছু শ্রমিক
কোন মতে বেঁচে আছে।প্রথম কোম্পানি থেকে ডিমান্ড এনে ভালো ভালো কথা বলে ফ্রী ভিসার লোকদের কোম্পানিগুলোতে কাজ করায়।

মানুষ কে বলেঃ ভাই প্রতি মাসে চেলারী একটুও বেশ কম হবেনা।ঘন্টা এতো রিয়াল থাকা খাওয়া ফ্রী আবার লোভ দেখায় যদি সমস্যায় পড়েন এডভান্সও দিবো।আরো কতো ভালোবাসার কথা বলে তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।এতে ওয়ার্কার সন্তুষ্ট হয়ে কাজে যোগ দেয়,আবার বড় বড় কোম্পানি গুলুতে ট্রেডের ওয়ার্কার গুলু অনেক হাড ইন্টারভিউ দিতে হয়। হাড় ভাঙ্গা পরিশ্রম ৪০/৪৫/৫০ ডিগ্রি রোদে কাজ করে প্রবাসিরা। আর মাস যখন পুরিয়ে যায় প্রবাসিরা আশা থাকে বেতন পাবো।

 

যে সাপ্লাই বা মেনপাওয়ারের অধিন কাজ করে তাদের যখন বলা হয় ভাই আমাদের বেতন দিন। এবার শুরু হয়ে যায় জারদ সন্তানদের নাটকিয় কথা। এবার তাদের আচার-আচরণ গুলু তুলে ধরলাম।শ্রমিকঃ ভাই বেতন দেন আমার কপিলকে কপালা দিতে হবে রুম বাড়া দিতে হবে, বাড়ীতে টাকা দিতে হবে।

সাপ্লাই বা মেনপাওয়ারঃ এই তো এখনই ইনবয়েজও করি নাই আপুনিও সেলারী সেলারী করতেছেন।সামনের সাপ্তাহে কিছু এডবাস নিয়া যাইয়েন।কোম্পানি ভালো কাজ করতে থাকেন মনে করবেন টাকা ব্যাংকে আছে।
শ্রমিকঃ দুই মাস কাজ করার পর আবার সাপ্লাই অফিসে গিয়ে বললো, ভাই আমার সেলারী দেন।

সাপ্লাই বা মেনপাওয়ারঃ ভাই সব ঠিক আছে আমার কপিলে চেকে সিক্নিসার করেনি কপিল কে চেক দিয়ে এসেছি, কাজ করতে থাকেন সমস্যা নেই চেলারী পেয়ে যাবেন।কোন টেনশান করিয়েন না।
শ্রমিকঃ দুই মাস বিশ দিন পর আবার যখন অফিসে যায়।ভাই আমার সমস্যা আমাকে আমাকে অল্প কিছু টাকা দেন।

সাপ্লাই বা মেনপাওয়ারঃ বেশি কথা বললে রিলিজ করিয়ে দিবো, সেলারীও পাবেন না,সাড়ে তিন মাসে চেলারী ভালো লাগলে কাজ করো না হলে চলে যাও, আর একাউন্টার কে বললো ওকে ১০০রিয়াল হাত খরচ দিয়ে দাও।

শ্রমিকঃ সাড়ে তিন মাস পর, ভাই আপনার পায়ে পড়ি আমাকে বাঁচান, আমার কপিলের কপাল দিতে হবে রুম বাড়া দিতে হবে, বাড়ীতে কিছু টাকা দিতে হবে।

সাপ্লাই বা মেনপাওয়ারঃ ভালো সাপ্লাই হলে বলবে ঠিক আছে প্রতি আওয়ার ২/৩রিয়াল কম করে এক মাসের চেলারী নিতে পারো, প্রায় ৬০০/৭০০রিয়াল কম করে কোন মতে ছেলারী উঠানু যায়,চোরের কিল মতনে খেয়ে।আর খারাপ সাপ্লাই হলে তো অফিস বন্ধ। মোবাইল বন্ধ।

শ্রমিকঃ অসহায়ের মতো কিছুই করার নাই ভাই ২/৩রিয়াল কমে হলেও দিন,আমি জান বাচাই, না পারি প্রতিবাদ করতে না পারি প্রতিশোধ নিতে।কারণ তিন চার মাসের সেলারী আটক।

সাপ্লাই বা মেনপাওয়ারঃ কাটিং করে এক মাসের সেলারী দিতে গিয়েও পি পি ইর জন ৩০০ রিয়াল কাটিং আইডির জন্য ৫০০রিয়াল কাটিং।ভাই কোম্পানি চার মাস পর পর সেলারী দিবে চার মাস পর এক মাসের চেলারী।ভালো লাগলে করেন না হয় রিলিজ নিয়ে চলে আসেন।

শ্রমিকঃ হায় আল্লাহ আগে বললেন মাসে মাসে এর পর বললেন তিন মাসে এখন বললেন চার মাসে।কি করবো এতো মাসের চেলারী রেখে কোথায় যাবো। পরে তো এই টাকাও পাবো না।ঠিক আছে।
সাপ্লাই বা মেনপাওয়ারঃ ভাই কাজ করেন কোম্পানি ভালো টাকা দিয়ে দিবে।

 

চিটিং সাপ্লাইঃচার মাস পর টাকা তুলে পালিয়ে গেলো।এদিকে ওরা তো সেন্টিকেট বাটপার। একজন এক যায়গায় থাকে মোবাইল বন্দ করে নেটওয়ার্ক সিষ্টেমে ঘুরে।পরে বাচতে না পারলে সাপ্লাই বন্ধ করে চেক তুলে নিয়ে পালিয়ে গেলো।শ্রমিক চার মাস পর এসে আর সাপ্লাই এর সন্দান পেলো না।কেউ ফোন তুলে না।অসহায় শ্রমিক দেখার সাহায্য করার কেউ নেই।আর মোটা মুটি ভালো সাপ্লাই, তারা বিভিন্ন রকম ভাবে কাটিং করে, মানে মুরগির ডিম কলিজা বাহির করে বাকী টুকু দে।

 

আর ভালো সাপ্লাই হাতে গনা দুই একটা এক মাসের কথা বলে দুই মাসে,দুই মাসে বললে তিন মাসে, তিন মাসে বললে চার মাসে, চার মাসে বললে ছয় মাসে।সেলারী দে।এক বছরে ১৬হাজার কপিল কে দিতে হয়,নিজের খরচ ৬ হাজার,দিয়ে, পরে নিজের বাড়ী ঘরের কথা চিন্তা করতে হয়। যেই মক্তবে আমেল ছিলো ২০০রিয়াল তা হয়েছে ৯,হাজার রিয়াল। কোথায় যাবো আমরা।

এদিকে প্রতারণা মাধ্যমে সাপ্লাই বা মেনপাওয়ার গুলু হতাশ করে চলছে।প্রবাসী শ্রমিকদের রক্ত চুষে নিচ্ছে বিভিন্ন কোম্পানি সাপ্লাই মেনপাওয়ার।দেখার কেউ নেই, সমাধান করার কেউ নেই।বিশেষ করে সৌদি আরব জুবাইল, দাম্মাম, জেদ্দা, রিয়াদ,মক্কা,ইয়ানবো।এই কয়টি শহরে বাংলাদেশি,ইন্ডিয়ান ক্যারেলা পাকিস্তান সৌদি দ্বারা শোষনের স্বীকার হচ্ছে, বেশির ভাগ ফ্রি ভিসার বাংলাদেশী ও নেপাল পাকিস্তানি ইন্ডিয়ান শ্রমিক।

 

আমাদের বাংলাদেশের সরকার গোয়েন্দা দিয়ে বিষয় গুলু যাচাই করে আমাদের বাংলাদেশের সাপ্লাই বা মেনপাওয়ার ব্যাবসায় যারা প্রতারণা করে আসছে।তাদের দেশে নিয়ে শাস্তির ব্যাবস্তা করার জোর দাবী জানাই।না হয় রেমিট্যান্স যুদ্ধারা শ্রম বাজার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলে দেশে দুরবিক্ষ দেখা দিবে।প্রতারক সাপ্লাই বা মেনপাওয়ারদের সমস্ত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে প্রতারণার স্বীকার শ্রমিকের মাঝে বন্টন করে দেয়ার জোর দাবী জানাই।

এবং অন্য দেশের প্রতারক সাপ্লাই বা মেনপাওয়ার অফিসের বিরুদ্ধে সৌদি আরব সরকারের কাছে অভিযোগ দেয়ার জোর দাবী জানাই।এবং মুক্তিযুদ্ধের মতো রেমিট্যান্স যুদ্ধাদের রাষ্ট্রিয় সকল সুজুগ সুবিধা দেয়ার জোর দাবী জানাই।কথাগুলো আমার একার নয় লাখ লাখ রেমিট্যান্স যুদ্ধাদের মনের কথা।

সকল চিটিংবাজ বাটপার দুনীতিবাজদের জন্য একটা চিড়িয়াখানা বানিয়ে ঐখানে তাদের রাখা হোক, যেনো সারাদেশের লোকেরা তাদের দেখতে পারে এবং শিক্ষা নিতে পারে। শেখ মুজিবুর রহমান সাহেব বলেছেন “যেখানে অন্যায় সেখানে প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তোল।”

(একজন সৌদি প্রবাসীর ফেসবুক পোষ্ট থেকে হুবহু নেওয়া)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *