Categories
জাতীয়

যত বছরের সাজা হতে পারে প্রতারক ডা. সাবরিনার

প্রতারণার মামলায় দ্বিতীয় দফায় রি’মান্ডে রয়েছেন সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ডা. সাবরিনা চৌধুরী। অভি’যোগ রয়েছে, চলতি বছরের ১৬ জুন সিটি করপোরেশন থেকে জেকেজি’র ট্রেড লাইসেন্স নেওয়া হয়। অথচ ৬ এপ্রিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেই নমুনা সংগ্রহের অনুমতি পায়। আর একটি বুথের অনুমতি থাকলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবগত না করে ৪০টির মতো অ’বৈধ বুথ স্থাপন করেছে তারা।

 

বুথ, হটলাইন ও বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে জেকেজি ২৭ হাজার মানুষের কোভিড নমুনা সংগ্রহ করে। আর বিনামূল্য নমুনা সংগ্রহের অনুমতি নিয়ে প্রতি রোগীর কাছ থেকে ৫ হাজার ও বিদেশি নাগরিকের কাছ থেকে ১০০ ডলার করে নিয়েছে তারা। এভাবে তিন মাসে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সাবরিনা ও আরিফের প্রতিষ্ঠান জেকেজি।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাবরিনার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি যে জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে সেটি পারভীন আক্তার নামের এক নারীর। সাবরিনা ও আরিফের গুলশান-২ এ কনফিডেন্স টাওয়ারের ১৫ তলায় জেকেজির কার্যালয়ে অভি’যান চালিয়ে ল্যাপটপ, কোভিডের জাল সনদ, পরীক্ষার কিট, বিদেশি মদের বোতল, ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। জানা গেছে এই কক্ষে প্রতিদিনই মদ, ইয়াবা ও নারীর আসর বসানো হতো।

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, প্রতারণার মামলা হলেও তার বিরু’দ্ধে তদ’ন্ত চলছে। তদ’ন্তে যেসব বিষয় উঠে আসবে সেগুলোর জন্য পৃথক মা’মলা হবে। অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনের দায়ে মানিলন্ডারিং আইনে মা’মলা হবে। মা’দক উ’দ্ধার হলে মাদ’কদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে, চাকরিতে অ’নিয়মিত থেকে বেতন-ভাতা নেওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

 

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, কেউ সরকারি চাকরিতে থেকে ব্যবসা করতে পারেনা। সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সরকারের সঙ্গে প্রতারণা ও চুক্তি ভ’ঙ্গ করেছে। এ জন্য পৃথক মা’মলা হতে পারে বলে জানান তিনি।

 

এছাড়া, সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, প্রতা’রণার সঙ্গে ক্ষ’মতার অপব্যবহারও করেছে ডা.সাবরিনা। প্রতারণার অভিযোগে দণ্ডবিধির ৪৬৭, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় মামলা হতে পারে। প্রতারনার অভিযোগে সর্বোচ্চ সাত বছরের সাজার বিধান রয়েছে। মিথ্যা রিপোর্ট দেওয়ায় যারা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন তারা ক্ষতিপূরনের মামলা করতে পারবেন। আর মিথ্যা রিপোর্ট নিয়ে কেউ চিকিৎসার অভাবে মারা গেলে ৩০৪ (ক) ধারায়ও মামলা করতে পারবেন।

 

তিনি বলেন, মিথ্যা রিপোর্ট নিয়ে কেউ অন্যদের আ’ক্রা’ন্ত করার কারনে সং’ক্রামক রোগ প্রতিরোধ আইনেও মা’মলা করা যায়। প্রতার’ণা করে অবৈধ অর্থ উপার্জনের কারণে মানিলন্ডা’রিং আইনের ২৬ ও ২৭ ধারা অনুযায়ী মাম’লা করা যাবে। এ ধারায় সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কা’রাদ’ণ্ড। যার নামে প্র’তারণা করে সিম ব্যবহার করছে তিনিও চাইলে প্র’তারণার অভিযোগে মা’মলা করতে পারেন।

 

সাজু বলেন, বিদেশি মা’দক ও ইয়া’বা উ’দ্ধার হলে পৃথক মাম’লা হতে পারে। ইয়াবার পরিমান ৪০০ গ্রামের বেশি হলে মৃ’ত্যুদ’ণ্ড পর্যন্ত শা’স্তির বিধান রয়েছে। আর ২৫ গ্রামের বেশি ও ৪০০ গ্রামের নিচে হলে ১০ বছরের সাজা। কর্মস্থলে নিয়মিত কাজ না করে বেতন-ভাতা নেওয়ার ঘটনায় সরকারি চাকরি বিধি অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা নিতে পারে বলেও জানান এই আইনজীবী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *