Categories
জাতীয়

আমাকে সীমান্ত পার করে দাও, ৫০ লাখ টাকা দেবো: শাহেদ

রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান শাহেদ করিমকে ভারতে পার করে দিতে ৫০ লাখ টাকায় রফা করেছিলেন আশ্রয়দাতা আল ফেরদৌস আলফা। এ জন্য নিজের মাছের ঘেরে সুসজ্জিত এসি ঘরে চার দিন শাহেদকে রেখেছিলেন তিনি। এর মধ্যেই আলফা ব্যবস্থা করেছেন নৌকা ও মাঝি।

 

পুলিশের এলিট ফোর্স র‌্যাবের হাতে শাহেদ গ্রে’প্তার হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্রের মাধ্যমে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

সূত্র জানায়, ৫৬ মাললার আ’সামি প্র’তারক শাহেদ করিম ভারতে পা’লিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। ভারতে পার করে দিতে আল ফেরদৌস আলফার সঙ্গে ৫০ লাখ টাকায় চুক্তি করেন প্রতারক শাহেদ। সে হিসেবে শাহেদকে আলফা সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলা শাকরা কোমরপুরে তার মাছের ঘেরে আশ্রয় দেয় আলফা। সেখানে এসি ঘরে চার দিনের মতো ছিলেন রিজেন্টের চেয়ারম্যান। এই সময়ের মধ্যে শাহেদকে ভারতে পালিয়ে যেতে নৌকা ও মাঝির ব্যবস্থা করেন আলফা।

 

আল ফেরদৌস আলফা সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সদস্য। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র মতে, ওই অঞ্চলে তিনি একজন কু’খ্যাত চো’রাকারবারি বলে পরিচিত। কিছুদিন আগেও তিনি চো’রাচালান মামলায় জেলে ছিলেন।এ বিষয়ে জানতে আলফা’র ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে কিছুক্ষণ তা ব্যস্ত এবং পরবর্তীতে বন্ধ পাওয়া যায়।

 

এদিকে আল ফেরদাউস আলফার অতীত ইতিহাস খুঁজতে গিয়ে দেখা যায়, তিনি এক সময় কুলির কাজ করতেন। এরপর জড়িয়ে পরেন অ’বৈধ চো’রাচালানে। কুলি থেকে বর্তমানে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক আলফা। রয়েছে একাধিক বিলাশবহুল বাড়ি, দামি গাড়ি এবং দেহর’ক্ষী।

 

স্থানীয়ভাবে মা’দক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত আলফা মা’দক মা’মলায় ইতোপূর্বে সাত বছরের সা’জাপ্রা’প্ত হয়ে জে’লেও গেছেন। পরবর্তীতে হাইকোর্ট থেকে জামিনে বেরিয়ে পুনরায় চো’রাচালানের রাজত্ব কায়েম করেন। সর্বশেষ গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর বিজিবি’র হাবিলদার মো. মোহসীন বাদী হয়ে সাতক্ষীরা সদর থানায় আলফার বিরু’দ্ধে একটি চোরাচালান মাম’লা করেছিলেন। সে মা’মলায় গ্রে’প্তারও হয়েছিল আল ফেরদৌস আলফা।

 

আলফা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তালিকাভুক্ত হু’ন্ডি ব্যবসায়ী, চো’রাকারবারি, মা’দক ও অ’বৈধ অ’স্ত্র ব্যবসায়ী। তারপরেও বর্তমানে সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের সদস্য পদে রয়েছেন।

 

সূত্র জানায়, আলফার ভাই আব্দুল আলিম সাতক্ষীরা চাঞ্চল্যকর বিজিবি সদস্য আব্দুল জব্বার হ’ত্যা মাম’লার চার্জশিটভু’ক্ত আ’সামি। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে মাম’লাটি করেন ভোমরা বিজিবির নায়েক মো. নাসির উদ্দীন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *