পরীক্ষার নাম করে ছেলে বন্ধুর সঙ্গে উধাও মেয়ে, জীবিত ফেরত চান মা

পরীক্ষার নাম করে ছেলে বন্ধুর সঙ্গে উধাও মেয়ে, জীবিত ফেরত চান মা

ইয়াশা মৃ’ধা সুকন্যা, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ থেকে এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা তার। গত ২৩ জুন মডেল টেস্ট পরীক্ষা দিতে গিয়ে ‘কলেজ থেকে নি’খোঁজ’ হন তিনি। পরে জানা যায়, পরীক্ষার নাম করে ছেলেবন্ধুর স’ঙ্গে গেছেন তিনি। কেটে গেছে প্রায় দুই মাস। মেয়ের খোঁজে পাগ’ল প্রায় মা। নাড়ি ছেড়া ধনকে জী’বিত ফেরত পেতে আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মেয়েকে জীবিত ফেরত চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সুকন্যার মা না’জমা ইসলাম লাকী। এ সময় তিনি জানান, পরীক্ষার পর কলেজ থেকে বেরিয়ে ইশতিয়াক নামে এক তরুণের স’ঙ্গে চলে যায় সুকন্যা। কিন্তু কলেজ থেকে তিনি কী’ভাবে বের হলেন- এ প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই।

লন্ডন প্রবাসীর স্ত্রী নাজমা নিজেই তার মেয়েকে নিয়ে কলেজে যাতায়াত করতেন। গত ২৩ জুন মডেল টেস্ট পরীক্ষা জন্য মেয়েকে নিয়ে যান। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুকন্যা কলেজে ঢোকেন। এ সময় তিনি কলেজের বাইরেই অন্যান্য অভিভা’বকদের স’ঙ্গে অপেক্ষা করতে থাকেন। নির্ধারিত সময় পরীক্ষা শে’ষ হওয়ার পর অন্যান্য ছাত্রীরা কলেজ থেকে বের হয়ে আসলেও সুকন্যা আসেননি।

নাজমা বলেন, সুকন্যার বান্ধবীদের কাছে জানতে চাইলে তারা কিছু বলতে পারেনি। পরে আমি বিকেল ৪টার দিকে কলেজ কর্তৃপ’ক্ষের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, সুকন্যার পরীক্ষা অ’নুপস্থিত ছিল। পরে আমি অনেক খোঁজাখুঁজি করেও মেয়েকে খুঁজে পাইনি। তার মোবাইল আমার কাছে ছিল। আমি সেটি চে’ক করে ইশতিয়াক নামে একটি ছেলের সঙ্গে তার কথোপকথন পাই। এরপর রমনা থানায় গিয়ে এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন নাজমা। পুলিশ সুকন্যার হোয়াটসঅ্যাপ থে’কে ইশ’তিয়াকের নম্বর নিয়ে ফোন করে। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় দেওয়া কলে ফোন রিসিভ করে ইশতিয়াকের বড় ভাই। পুলিশ তাকে বিষয়টি জানিয়ে ইশতিয়াককে স’ঙ্গে নিয়ে থানায় আসতে বলে।

এর পর থেকে কখনও নম্বরটি বন্ধ করে রাখা হচ্ছিল; আবার কখনও চালু করা হচ্ছিল। নাজমা বলেন, সেদিন রাত পৌনে নয়টার দিকে আমার মো’বাইলে সুকন্যার ফে’সবুক আই’ডি থেকে মেসেজ আসে- ‘মা আমি বাসায় আসছি তুমি চিন্তা কোরো না’। পরে আমি জানতে পারি মেসেজটি আমার মেয়ে নয়, ইশ’তিয়াক পাঠিয়েছে। রাত পৌনে ১১টার দিকে পুলিশ আমাকে ফোন দিয়ে বলে, আপনি মগবাজার বটতলায় আসুন। আপনার মেয়েকে নিয়ে ইশতিয়াক আসছে। কিন্তু সে আ’সেনি।

রাত সাড়ে ১১টায় আমার ফোনে কল আসে। ইশতিয়াক আমাকে বলে, আন্টি সুকন্যা কী বাসায় ফিরেছে? আমি তাকে বলি, কীভাবে ফিরবে সে তো তোমার স’ঙ্গে আছে। এ কথা বলে আমি ফোনটি পুলিশকে দিই। পুলিশ ইশতিয়াককে বলে সুকন্যাকে নিয়ে আসতে, নয়ত ভালো হবে না। ইশতিয়াক ২০ মিনিটের কথা ব’লে আর আসেনি, নিজের নম্বরটিও বন্ধ করে দেয়। তিনি আরও বলেন, গত ২৪ জুন সকালে পুলিশ ইশতিয়াককে গ্রে’ফতার করে থানায় ডা’কিয়ে আনে।

সে তার বন্ধু সালমানকে নিয়ে আসে। আমি এ সময় তাকে বার বার সুকন্যার কথা জিজ্ঞেস করি। বলি, বাবা তুমি আমার মেয়ে কি কী করেছ? মে’রে ফেলে’ছো? ইশতিয়াক বলে, না আন্টি মা’রব কেন? তখন আমি জিজ্ঞেস করি, সুকন্যাকে কী অন্য কারও কাছে দিয়ে দিয়েছো? সে মাথা নিচু করে রাখে। এ সময় আমার ফেসবুকে মেসেজ পাঠানোর বিষয়টি স্বীকার করে ইশতিয়াক। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, ২৩ জুন সারাদিন সুকন্যার তার সঙ্গে ছিল। রাত ৮টায় তাকে রি’কশায় তুলে দেয়। সারাদিন কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন- পুলিশের এ প্রশ্নের উত্তরে ইশতিয়াক ওয়ারীর বিভিন্ন রেস্তরাঁর কথা জানায়। কিন্তু রেস্তোরাঁগুলোয় নিয়ে গেলে জানায়, সে এখানে আসেনি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2022 Jonotaralo
Design BY NewsTheme