বিদেশ থেকে ৩৬ বছর পর নিঃস্ব হয়ে ফেরা প্রবাসীকে নিতে চায়নি স্বজনরাও!

বিদেশ থেকে ৩৬ বছর পর নিঃস্ব হয়ে ফেরা প্রবাসীকে নিতে চায়নি স্বজনরাও!

তিন যুগ পর বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় অবশে’ষে দেশে ফি’রলেন অসিত লাল দে নামে এক বাহ’রাইন প্রবাসী। তার পাসপোর্ট নং (F244748)। দীর্ঘদিন পর প্রবা’সফেরত ব্য’ক্তি মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর উপজেলার আলীপুর গ্রামের উপেন্দ্র লাল দের ছে’লে। অসিত লাল দে দীর্ঘ ৩৬ বছর আগে নিজের ভাগ্য ফে’রাতে ও পরিবা’রের মুখে হাসি ফোটাতে বাহরাইন যান। এর পর থেকেই পরিবারের স’ঙ্গে যোগাযোগ ব’ন্ধ করে দেন।

এছাড়া এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে তিনি দেশেও আসেননি। তাই পরিবার থেকে তিনি বি’চ্ছি’ন্ন হয়ে প’ড়েন। বাহরাইন থেকে দূতাবা’সের বরাত দিয়ে প্রবাসী সালেহ আহমদ সাকী বাং’লানিউ’জকে এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, গত ২৪ মার্চ হ’ঠাৎ করে স্ট্রো’ক করে সাল’মানিয়া হাসপাতালে ভর্তি হন অ’সিত লাল। ভর্তির পর তার কোনো মালিক বা স্প’নসর এবং কোনো আত্মীয়-স্বজন না থাকায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবা’সের স’ঙ্গে যোগাযোগ করে।

দূতাবাসের সার্বিক সহযোগিতায় দীর্ঘ পাঁচ মাস চিকিৎসার পর কিছুটা সু’স্থ হয়ে ওঠেন তিনি। দূতাবাস তাকে দেশে পাঠাতে তার ভাই ও আ’ত্মীয় স্বজনদের স’ঙ্গে যোগাযোগ করলে কেউই তাকে গ্রহণ করতে রাজি হননি। তাদের ক্ষো’ভ, ৩৬ বছর যে মানুষটি আমাদের প্রয়োজন মনে করেনি, এখন কেন আমা’দের প্রয়োজন? পরে রাষ্ট্রদূত ড. নজরুল ইসলামের নির্দেশনায় দূতাবাসের প্রচেষ্টায় রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সহযোগিতায় স্বজনরা অসিতকে গ্রহণ করতে রা’জি হন।

অবশেষে দূতাবাস গত ৯ আগষ্ট ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও বাহরাইনস্থ বাংলাদেশ কমিউনিটির সহাযোগিতা নিয়ে অসিত লাল দেকে এ’কজন প্রতিনিধিসহ দেশে পাঠায়। ১০ আগস্ট রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা পাল উপস্থিত থেকে তাকে পরিবারের লোকজনের হাতে তুলে দেন। রাজনগর উপজে’লা নির্বাহী অফিসার প্রিয়াংকা পাল বাং’লানিউ’জকে বলেন, অসিত লাল দে ব্রে’ন স্ট্রো’কের পর দূতাবাসের সহযোগিতায় দেশে আসেন। তিনি একেবারে নিঃ’স্ব অবস্থায় দে’শে ফিরেছেন। তার দে’হের একাংশ প্যা’রালাইজ’ড হয়ে গেছে। ব্যক্তি জীবনে তিনি অবিবাহিত।

বাহরাইন দূতাবাস বেলাল আহমদ নামে একজন প্রতিনিধি দিয়ে তাকে দেশে পাঠিয়েছেন। গ্রামের বাড়িতে তার একমাত্র ভাই উমা দে রয়েছেন। তিনি হযরত শাহজালাল এয়ারপোর্টে গিয়ে তাকে এগিয়ে নিয়ে আসেন। তাছাড়া পরিবারের অব’স্থাও খুবই খা’রা’প। এ অবস্থায় তার চিকিৎসার প্রয়োজন রয়েছে। আপাতত দূতাবাস থেকে ৬১ হাজার টাকা স’ঙ্গে দেওয়া হয়েছে। আরো এক লাখ টাকা দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ওই প্রবাসীর চিকিৎসার্থে আমরা সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে আ’র্থিক সহায়তা দেওয়ানোর চেষ্টা করবো। আগামী মি’টিংয়ে এই প্রস্তাব তোলার পর জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে। তবে তার গ্রামের বাড়ি দু’র্গম এলাকায়। সেখান থেকে এসে থেরা’পি দেওয়ানোটাও দু’স্কর। অবশ্য আমরা তার বাড়িতে গিয়েছি। তার চিকিৎসার বিষয়েও খোঁজ খবর রাখবো।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published.




© All rights reserved © 2022 Jonotaralo
Design BY NewsTheme